নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ইসকন পরিচালিত রাধা গোবিন্দের মন্দিরের সীমানা প্রাচীর রাতের আঁধারে ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার রাতে উপজেলার ভিংরাবো এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভিংরাবো এলাকায় অবস্থিত ইসকন পরিচালিত শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির নিয়ে এর পরিচালকদের সঙ্গে স্থানীয় হিন্দুদের বিরোধ চলে আসছিলো।
এই বিরোধের জের ধরে ইতোপূর্বে কয়েকদফা হামলা-মামলা ও ভাংচুরের ঘটনাও ঘটেছে। মন্দিরে এ বছর দূর্গা পূজা পালন করার জন্য ইসকন মন্দির কমিটির পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই প্রাণ কুমার বিশ্বাসের নেতৃত্বে স্থানীয় হিন্দুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন। এ নিয়ে ইসকন অনুসারী ও স্থানীয় হিন্দুদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। বুধবার সকালে মন্দির পরিচালনা কমিটি সদস্যরা রূপগঞ্জ থানার ওসি ঈসমাইল হোসেনের সঙ্গে দেখা করে সুষ্ঠু সমাধান চান। দুপুরে ওসি মন্দিরের ভেতরে উভয়পক্ষের লোকজনকে নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা চালান। এসময় প্রাণ কুমার বিশ্বাসসহ তার লোকজন মন্দির পরিচালকদের ওপর চড়াও হন। পরে তারা সেখান থেকে চলে আসেন।
মন্দিরের পরিচালক বিধান কৃষ্ণ অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের লোকজন রাত ১২টার দিকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মন্দিরের সীমানা প্রাচীরের পূর্বদিকের কিছু অংশ ভেঙে ফেলে। পরে মন্দিরের পূজারি ও পরিচালকদের মন্দির ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে মন্দির পরিচালন বিধান কৃষ্ণ সমদ্দার বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত প্রাণ কুমার বিশ্বাস মন্দিরের দেয়াল ভাঙার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা রূপগঞ্জ থানার ওসির কাছে গিয়েছি। সেখানে সমঝোতা না হওয়ায় ইউএনও ব্যাপারটা নিয়ে বসবেন বলে কথা দিয়েছেন। এ অবস্থায় আমাদের ফাঁসানোর জন্য মন্দিরের লোকজনই দেয়াল ভেঙে মিথ্যা অভিযোগ তুলছে আমাদের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ওসি ঈসমাইল হোসেন বলেন, ‘ইসকন মন্দির নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। আমি বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করি। কিন্তু কোনও পক্ষই সমঝোতায় আসেনি। মন্দির সীমানা প্রাচীর ভাংচুর ও হুমকি ধমকি দেওয়ার দুটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’








