রাজবাড়ী জেলার সবচেয়ে বড় ও ভিন্নধর্মী পূজার আয়োজন চলছে বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুরের আলোকদিয়া গ্রামে। ব্যতিক্রমধর্মী এ পূজা উপহার দিতে চলেছে জামালপুর ও আলোকদিয়া উত্তরপাড়া সার্বজনীন শ্রী শ্রী শারদীয়া দুর্গা পূজা উদযাপন পরিষদ। এমনটাই দাবি আয়োজক কমিটির।
পুকুরের ওপর প্রায় ৪০ ফুট উচ্চতায় তৈরি হচ্ছে পাঁচটি বিশাল আকারের মণ্ডপ। সেগুলোতে বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রায় দুইশ’ প্রতিমা প্রদর্শন করা হবে। রঙিন বাতির অলোকসজ্জা ও তোরণ দিয়ে সাজানো হবে সড়ক ও মণ্ডপের আশপাশের এলাকা। জামালপুর ও আলোকদিয়া সার্বজনীন শ্রী শ্রী শারদীয়া দুর্গা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিধান কুমার ভট্টাচার্য্য এ তথ্য জানান। দেবী দুর্গা এবার নৌকায় করে আসবেন আর ঘোড়ায় চড়ে বিদায় নেবেন বলেও জানান তিনি।
প্রতিমা শিল্পী প্রশান্ত পাল জানান, তারা গত দুই মাস ধরে ১০-১২ জন শিল্পী মিলে বালিয়াকান্দির জামালপুরে দুই শতাধিক দেব-দেবীর মূর্তি তৈরির করার কাজ করছেন। এখন রঙ ও সাজ-সজ্জার কাজ চলছে। এবার আধুনিক প্রযুক্তিতে স্প্রে’র মাধ্যমে প্রতিমায় রঙ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্যান্ডেল সাজানোর দায়িত্বে থাকা মো. বিল্লাল জানান, তিনি তার ২৫ জন শ্রমিক নিয়ে গত দুই মাস ধরে মণ্ডপগুলো সাজানোর চেষ্টা করছেন। বিশাল আকৃতির এই মণ্ডপগুলোতে প্রায় ২০ হাজার বাঁশ, ৯০ মণ লোহা, ১০ হাজার সিএফটি কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
জামালপুর ও আলোকদিয়া উত্তরপাড়া সার্বজনীন শ্রী শ্রী শারদীয়া দুর্গা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক গোবিন্দ কুমার বিশ্বাস জানান, মণ্ডপগুলোতে সনাতন ধর্মের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরতে দুর্গা পূজা শুরুর দিন থেকে লক্ষী পূজা পর্যন্ত প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে রাজবাড়ীর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. আছাদুজ্জামান জানান, জেলায় এবার চার শতাধিক মণ্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এজন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক নারী ও পুরুষ পুলিশ সদস্য, সাদা পোশাকধারী পুলিশ, গ্রাম পুলিশ এবং আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে ভ্রম্যমাণ আদালতের বেশ কয়েকটি টিম কাজ করবে বলেও জানান তিনি।








