কল্পনা রানী (২৫) নামের এক গৃহবধূকে খুন করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্বামী সঞ্জিত কুমার ঘোষ নিজেই তার স্ত্রীকে খুন করেছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। লাশটি এখনও পাওয়া যায়নি। মানিকগঞ্জ ঘিওর উপজেলার তেরশ্রী এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। ঘিওর থানার এসআই মো. হযরত আলী এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঘিওর থানার ওসি মো. রবিউল ইসলাম জানান, সঞ্জিত কুমার ঘোষ ও তার মাকে নাগরপুর থেকে বুধবার গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া তেরশ্রী থেকে সঞ্জিত কুমার ঘোষের বন্ধু নির্মল সাহা (৪০), চিত্য ঘোষ (৩৫) ও বদ্যো সাহাকে (৪০) আটক করা হয়। পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান, হত্যা মামলাটির রহস্য উদঘাটনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত আছে। এছাড়া লাশ উদ্ধারের জোর তৎপরতা চলছে।
এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে এসআই হযরত আলী জানান, ৮ বছর আগে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার চানদলিয়া গ্রামের কালীপদ ঘোষের মেয়ে কল্পনা রানীর সঙ্গে ঘিওর উপজেলার তেরশ্রী গ্রামের মৃত্য নারায়ণ চন্দ্র ঘোষের ছেলে সঞ্জিত কুমার ঘোষের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের দাম্পত্য কলহ চলছিল। তাদের ৬ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
হযরত আলী জানান, রবিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে সঞ্জিত কুমার ঘোষ দুর্গাপূজা উপলক্ষে পরিবারের জন্য নতুন জামা কাপড় কিনে বাড়িতে আসেন। জামাকাপড় স্ত্রীর পছন্দ না হওয়ায় উভয়ের মাঝে ঝগড়া হয়। স্বামী সঞ্জিত কুমার ঘোষ রাতে টিভি দেখতে থাকলে স্ত্রী তা বন্ধ করে দেন। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে গভীর রাতে তাকে গলা টিপে হত্যা করে তার লাশ সিএনজিতে ঘিওর পশু হাসপাতাল সংলগ্ন বেইলি ব্রিজ থেকে ধলেশ্বরী নদীতে ফেলে দেন তিনি।
তিনি আরও জানান, সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সঞ্জিত কুমার ঘোষ তার স্ত্রী নিখোঁজ হয়েছে মর্মে ঘিওর থানায় একটি জিডি করেন। জিডির তদন্তের একপর্যায়ে হত্যার ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যায়। জিডি করার পর থেকে সঞ্জিত মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে গা ঢাকা দেয়। পরে তাকে নাগরপুর থানার এলাসিন গ্রামের খালার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।








