গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ধর্ষণের কারণে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়া কিশোরী সন্তান প্রসবের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষণে মারা গেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তার মৃত্য হয়। তবে তার নবজাতক শিশুটি (ছেলে) জীবিত রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গত জানুয়ারিতে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের প্রতিবেশী জাহিদুল ইসলামের ছেলে রিফাত মিয়া ধর্ষণ করে ওই কিশোরীকে। কিশোরীর পরিবার জানায়, মাদ্রাসাপড়ুয়া কিশোরীকে ধর্ষণের পর ঘটনা কাউকে না জানাতে রিফাত ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একপর্যায় কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ঘটনাটি জানাজানি হয়ে যায়। এরপর থেকে স্থানীয় সমাজপতিরা বিষয়টি আপসের নামে পাঁচ মাস টালবাহনা করে। পরে কিশোরী নিজেই বাদী হয়ে রিফাতের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৪ জুন গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করে।
তাদের অভিযোগ, মামলার ৩ মাস হলেও পুলিশ ধর্ষক রিফাতকে গ্রেফতার করেনি। বরং পুলিশ পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। রিফাতকে দ্রুত গ্রেফতার ও তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন কিশোরীর স্বজন ও এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. হেদায়েত ইসলাম সানু জানান, অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ডেলিভারি করলে সে ছেলে সন্তানের জন্ম দেয়। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে বিকালে মারা যায় কিশোরীটি।
কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোবিন্দগঞ্জ থানার এসআই মোমিনুল ইসলাম জানান, আসামি রিফাত পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতার করা যাচ্ছে না। তাকে গ্রেফতারে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এছাড়া, মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিলের প্রক্রিয়া চলছে।








