পদ্মা সেতুর পিলারে স্প্যান দেখে ক্ষতিগ্রস্তদের মুখে স্বস্তির হাসি

মনির হোসেন সাজিদ, শরীয়তপুর
৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৭:৫৯আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৯:০৬

পিলারের ওপর বসেছে প্রথম স্প্যান। বাস্তবের আরও কাছাকাছি পদ্মা সেতু জাজিরা পয়েন্টে দুটি পিলারের ওপর স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। আর তা দেখে স্বস্তির হাসি ফুটেছে পদ্মা সেতুর জন্য ঘরবাড়ি ছেড়ে দেওয়া মানুষজনেরও মুখে। শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের উপস্থিতিতে পদ্মা সেতুর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের ওপর প্রথম স্প্যান বসানো হয়। মন্ত্রী চলে যাওয়ার পর কথা হয় পদ্মা পাড়ের মানুষের সঙ্গে।

স্থানীয় শামসুদ্দিন মাদবর বলেন, ‘বাপ-দাদার ভিটাসহ ৫০ শতাংশ জায়গা পদ্মা সেতুর জন্য ছেড়ে দিতে হয়েছে। এখন পদ্মা সেতুর পুনর্বাসন এলাকায় পাঁচ শতাংশ জায়গার ওপর ঘর উঠিয়ে থাকি। পদ্মা সেতুর পিলার দেখে এখন আর মনে কোনও দুঃখ নেই।’ পূর্ব নাওডোবা এলাকার নেছার মাদবর বলেন, ‘পদ্মা সেতু বাংলাদেশের গর্ব। এ সেতুর জন্য জমি দিতে পেরে আমরা খুশি।’

মাঝিরহাট এলাকার দবির বেপারি বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম পদ্মা সেতু একটা রাজনৈতিক চাল। লোক দেখানোর জন্য জমি অধিগ্রহণ করেছে। বছরের পর বছর এভাবেই পড়ে থাকবে। কিন্তু, পদ্মা সেতু হচ্ছে– এটাই এখন সত্য।’ ষাটোর্ধ্ব হালিমা বেগম অশ্রুসিক্ত কন্ঠে বলেন, ‘সেতুর জন্য শ্বশুর, শাশুড়ি ও স্বামীর কবরসহ ভিটা হারাইছি। মাঝে মাঝে অনেক দুঃখ লাগে। শুনছি, নদীর মধ্যে ব্রিজ বানানোর জন্য বড় বড় খুঁটি গাড়ছে। দেশের কথা চিন্তা কইরা এখন আর কষ্ট হয় না।’
সেতু বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পদ্মা সেতুর মূল কাজ হয়েছে ৪৯ শতাংশ। তবে সব মিলিয়ে কাজ হয়েছে ৪৭.৫ শতাংশ। দুই পাড়ের সংযোগ সড়কের মধ্যে মাওয়া অংশের কাজ শতভাগ এবং জাজিরা অংশের কাজ ৯৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।
শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী সিদ্ধান্তে স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন বাস্তব। ষড়যন্ত্রকারীরা এখন গা ঢাকা দিয়েছে।’

জাজিরা উপজেলা চেয়ারম্যান মোবারক আলী সিকদার বলেন, ‘পদ্মা সেতুর জন্য এ অঞ্চলের মানুষ অনেক বড় ত্যাগ স্বীকার করেছে। বসত বাড়িসহ হাজার হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এখন পদ্মা সেতুর কাজ অর্ধেক সম্পন্ন হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ কষ্ট ভুলে শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করছে।’



/এএম/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম