মংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবলের তীব্র সংকট চলছে। ২৭ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও এখানে আছেন মাত্র পাঁচ জন। জুনিয়র কনসালট্যান্ট ১০ জন থাকার কথা, নেই একজনও। জনবল সংকটের পাশাপাশি অভাব রয়েছে যন্ত্রপাতিরও, যার দরুন এখানে অপারেশন ও জরুরি পরীক্ষানিরীক্ষা হয়-ই না। এতে চিকিৎসা নিতে এসে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রোগীদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার দুই লাখের বেশি মানুষের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র মাত্র একটি, মংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অথচ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র নানা সমস্যায় জর্জরিত। এখানে আলট্রাসনোগ্রাফি ও এক্স-রে এর ব্যবস্থা নেই। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নেই কোনও অ্যানেসথেসিস্ট। তাই কোনও অপারেশন হয় না। আবার ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে এখানে এক্স-রে অপারেটরের পদটি রয়েছে খালি। ফলে রোগীরা এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এক্স-রের সুবিধা পান না। এমন নানা কারণে এলাকার জনসাধারণ চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খাতাপত্রে চিকিৎসক থাকার কথা ২৭ জন। কিন্তু আছেন মাত্র পাঁচ জন। এই পাঁচ জনের অনেকে আবার ঠিকমতো রোগী দেখেন না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালটির জরুরি বিভাগের এক কর্মী জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উদ্বোধনের মাস খানেক পরই এর এক্স-রে মেশিন অকেজো হয়ে পড়ে। অনেক চেষ্টা করেও মেশিনটি ঠিক করা সম্ভব হয়নি। এরপর ২০০৯ সালের অক্টোবরে আনা হয় অত্যাধুনিক ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন। সেটিও চালু করা যায়নি। আবার এক্স-রে মেশিন পরিচালনার জন্য ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজারও নেই। ফলে এ হাসপাতাল থেকে রোগীরা কোনও এক্স-রে সুবিধা পান না।
সরেজমিনে এ হাসপাতালের বর্হিঃবিভাগে গিয়ে দেখা যায়, ফাতেমা নামে এক নারী তার তিন বছরের শিশুকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য এসেছেন। তিনি জানালেন, দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকলেও ডাক্তারের দেখা নেই। ফাতেমার মতো বসে আছেন আরও অনেকে। তাদেরও ভাষ্য, ডাক্তারের দেখা নেই। অথচ নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে এখানে ডাক্তারদের উপস্থিত হওয়ার কথা।
এ হাসপাতালের ডাক্তারা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করছেন কি না, তা দেখার দায়িত্ব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহাবুবুর রহমানের। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ডা. মাহাবুবুর রহমানও হাসপাতালে নেই। তার মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি বলেন, ‘বাগেরহাট সিভিল সার্জন অফিসে জরুরি কাজে আছি’।
ডা. মাহাবুব আরও বলেন, ‘হাসপতালে পাঁচ জন ডাক্তার নিযুক্ত আছেন। এর মধ্যে ডা. শাহীন নামে একজন ছুটিতে রয়েছেন। আর ডা. মশিউর, রাফি এবং কায়সার তার সঙ্গেই বাগেরহাটে আছেন।’ তারা সবাই সেখানে সিভিল সার্জন অফিসে একটি ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য গিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
হাসপাতাল ঘুরে ডা. সুদিব বালা নামে একজনকে পাওয়া যায়। একা কিভাবে সেবা দিচ্ছেন, জিজ্ঞেস করলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একটু তো চাপ পড়ে, এগুলো মেনেই কাজ করতে হয় আমাদের।’
এদিকে, হাসপাতালটিতে অপারেশন থিয়েটার থাকলেও এপর্যন্ত এখানে কোনও অপারেশনও হয়নি। এছাড়া এখানে নেই ইর্মাজেন্সি সিজারের ব্যবস্থাও।
এসব ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য তালুকদার আ. খালেক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হাসপাতালের বিরাজমান সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত এর সমাধান করা হবে।’
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি নূর আলম শেখ বাংলা ট্রিবিউন বলেন, ‘প্রান্তিক ও দূর্গম অঞ্চলের মানুষ কেমন চিকিৎসা পাচ্ছেন, তার উদাহরণ সুন্দরবনের কোলঘেঁষা এই হাসপাতল। এখানে ডাক্তার নেই, পর্যাপ্ত ওষুধ নেই।’ দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান সরকারকেই করতে হবে বলে দাবি জানান তিনি।








