খামার করে ক্ষুধামুক্ত শিবপুরবাসী

বরিশাল প্রতিনিধি
০২ অক্টোবর ২০১৭, ০৯:৩৯আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০১৭, ০৯:৩৯

খামার করে ক্ষুধামুক্ত শিবপুরবাসী মাছ, মুরগি ও সবজির খামার করে ক্ষুধামুক্ত বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকার শিবপুর গ্রামের প্রায় দুইশ পরিবার। গ্রামের নারী-পুরুষরা রাত পোহালেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন জীবন ও জীবিকার কাজে।

এক সময়ের দরিদ্র অঞ্চল বলে খ্যাত শিবপুর গ্রামের গৃহবধূরা এখন নিজেদের সংসার সামলে মুরগি ও মাছের খামার এবং সবজি ক্ষেতের পরিচর্যা করে দিন কাটান। এসব খামার ও আগাম সবজি বিক্রি করেই স্বাবলম্বী হয়েছেন শিবপুর গ্রামের এসব পরিবার। ওই গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের ছেলে-মেয়েরা এখন বিভিন্ন স্কুল-কলেজে পড়াশুনা করছেন।

গ্রামবাসীর দাবি, গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হওয়ায় এবং ঘরে ঘরে বিদ্যুত সংযোগ পাওয়ায় ভাগ্য বদলাতে পেরেছেন তারা।

সাতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক আজাদ বলেন, ‘আমি নিজেও সমিতির মাধ্যমে গ্রামের শতাধিক পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছি। মূলত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ও বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছায় শিবপুর গ্রামের প্রায় দুইশতাধিক পরিবার একসঙ্গে মাছ, মুরগি ও সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হতে পারছেন। এ সাফল্যের পেছনে নারীদের ভূমিকা বেশি।’

তিনি আরও বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও দারিদ্রপীড়িত ওই গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হতো নৌকা বেয়ে, বিলে মাছ ধরে ও শাপলা বিক্রি করে। অভাব অনটন ছিল তাদের নিত্য সঙ্গী। বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না। ফলে ছেলে মেয়েরা রাতে পড়াশুনাও করতে পারতো না।’

ওই গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি যোগেন সরকার (৮১) বলেন, ‘বছরের ৮/৯ মাস বিল অঞ্চল পানিতে ডুবে থাকে। প্রায় পুরো বছর জুড়েই জীবিকা ও যোগাযোগের জন্য নৌকাই প্রধান ভরসা। বিলে মাছ ধরে ও শাপলা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করাই ছিল অধিকাংশ পরিবারের পেশা।’

তিনি আরও বলেন, ‘একই জমিতে মাছ চাষ, মুরগি পালন ও কৃষিকাজের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন গ্রামবাসীরা। ওইসব পরিবারের নারীরা আয়ের পাশাপাশি এখন পরিবারের পুষ্টিও জোগান দিচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন দারিদ্র কমছে, ঠিক তেমনিভাবে নারীরা সমাজে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছেন। এছাড়া এলাকার ছেলে-মেয়েরা এখন বিভিন্ন নামকরা স্কুল-কলেজে পড়াশুনা করছে।’

ওই গ্রামের নির্মল রায় বলেন, ‘আমি স্থানীয় বিশারকান্দি বাজারে মুদি-মনোহরীর ব্যবসা করছি। গত তিন বছর ধরে আড়াই বিঘা জমিতে মাছ চাষ করছি। মাছের ঘেরের ওপর মুরগির খামার করেছি। সেখানে প্রায় দুইহাজার মুরগি পালন করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এছাড়া ফাঁকা জমিতে সিম, বরবটি, লাউ, করল্লা ও কুর্শি চাষ করা হয়। ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে সবজি চাষ করে ইতোমধ্যে প্রায় দুই লাখ টাকার সবজি বিক্রি করেছি।’

দিনমজুর শিবু বিশ্বাস বলেন, ‘যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হওয়ায় তিনবছর আগে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এক বিঘা জমিতে মাছ ও সবজি চাষ শুরু করি। এক বছরের সবজি বিক্রি করে ঋণের টাকা পরিশোধ করেছেন। পরবর্তী বছরের উপার্জিত অর্থ দিয়ে ঘেরের মধ্যে মুরগির খামার করেছি।’

শুধু নির্মল ও শিবু বিশ্বাসই নন, ওই গ্রামের দুইশতাধিক পরিবার এভবে ঘেরে মাছ চাষ ও মুরগির খামার করে এবং ঘেরের চারপাশে সবজি চাষ করে এখন স্বাবলম্বী হয়েছেন।

আরও পড়ুন:
মিয়ানমারের মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে গুরুত্ব পাবে রোহিঙ্গা ফেরতসহ দুই ইস্যু
অনিশ্চয়তার মুখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরিদের সরকারিকরণের দাবি

অগ্রগতি নেই মজু চৌধুরীর হাট নৌ-বন্দরের নির্মাণকাজে
শক্তিশালী পুঁজিবাজার উন্নত অর্থনীতির প্রধান হাতিয়ার: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী


/এসএনএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
বিক্রির জন্য নিলামে উঠছে এই আধুনিক দুর্গটি
বিক্রির জন্য নিলামে উঠছে এই আধুনিক দুর্গটি
পাবনায় কিশোরীকে হত্যা: কথিত প্রেমিকসহ ৩ জন গ্রেফতার
পাবনায় কিশোরীকে হত্যা: কথিত প্রেমিকসহ ৩ জন গ্রেফতার
গৌরীই কি তবে আমির খানের জীবনের বনলতা সেন?
গৌরীই কি তবে আমির খানের জীবনের বনলতা সেন?
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম