বরিশালে লক্ষীপূজা উপলক্ষে হাটখোলা হরিমন্দির প্রাঙ্গনে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীরহাট শেষ হচ্ছে আজ। গত মঙ্গলবার এ হাট শুরু হয়। বুধবার এ হাট ছিল জমজমাট।
জানা গেছে, লক্ষ্মীকে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধির দেবি মনে করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। নগরীর মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নারায়ন চন্দ্র দে নারু জানান, শতাধিক বছর ধরে বরিশাল হাটখোলার হরিমন্দিরে লক্ষ্মী পূজা উপলক্ষে এই লক্ষ্মীর প্রতিমা, সরা ও উপকরণের মেলা বা হাট বসে। দুর্গাপূজার বিসর্জন অর্থাৎ বিজয়া দশমীর পরদিন হতে শুরু হওয়া এ হাট বা মেলা এ বছর মঙ্গলবার হতে শুরু হয়েছে। শুক্রবার প্রথম প্রহরে মেলা শেষ হবে।
ইতোমধ্যে মেলায় লক্ষ্মীর প্রতিমা, পূজার মাটির উপকরণ ও শলা সামগ্রী নিয়ে এসেছেন মৃৎশিল্পী ও শলা শিল্পীরা। বেচা-বিক্রিও জমে উঠেছে। ঐতিহ্যবাহী এই মেলায় এসে কেনা কাটা করছেন ভক্তপ্রাণ মানুষরা।
গ্রাম থেকে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা লক্ষ্মী পূজার এসব সামগ্রীর সঙ্গে পদ্মকুড়ি, কলা গাছ, ফুল, বেলপাতার উপকরণও এনেছেন।
মেলা ঘুরে দেখা গেছে, আকার ভেদে খড়ের তৈরি লক্ষ্মী প্রতিমা পাঁচশ থেকে আড়াই হাজার, সাজের তৈরি ৫০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি লক্ষ্মীর সরা ৫০-২০০ টাকা, লক্ষ্মীর ঘট ২০-৪০ টাকা, জল ঘট ১০-২৫ টাকা, পিলসুজ ১০-২০ টাকা, প্রদীপ ১০-১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া লক্ষ্মী পূজার দিন ঘর সাজানোর আল্পনা এবং ঝুলন সামগ্রী ডিজাইন অনুযায়ী ৩০-১৫০ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
বিক্রেতারা প্রধানত বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নেয়ামতি, কলসকাঠি, কুমারখালি, চরআইচা, বাবুগঞ্জের মাধবপাশা, ঝালকাঠির সদও, রিয়তপুরের ফাইলপাড়া অঞ্চল হতে কুটিরশিল্প পর্যায়ে প্রস্তুত সামগ্রী নিয়ে এসেছেন।
মেলায় আগত ফাইলপাড়ার বুলারানী, নেয়ামতির গুরুদাশ পাল জানান, তারা প্রতিজন ৩০/৪০টি করে লক্ষ্মী প্রতিমা নিয়ে এসেছেন। সর্বোচ্চ আটশ থেকে সর্বনিম্ম দুইশ টাকা পর্যস্ত প্রতিমা রয়েছে তাদের। ইতোমধ্যে ভালোই বিক্রি করেছেন তারা। এ ব্যবসার তারা লাভ ক্ষতির চেয়ে পারিবারিক ঐতিহ্য রক্ষা, ধর্মীয় পূণ্যার্জনের ওপর বেশি গুরুত্ব দেন।








