গত ৮-৯ বছর ধরেই হাকালুকি হাওরে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। তবে এবার হাওরের গভীর অংশ ও ফেঞ্চুগঞ্জের কুশিয়ারা নদী সংলগ্ন এলাকায় ইলিশ ধরা পড়েছে আগের চেয়ে বেশি। বিশেষ করে রাতের বেলা জেলেদের জালে অন্যান্য মাছের সঙ্গে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে।আগে যেসব ইলিশ পাওয়া গেছে সেগুলোর ওজন ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রামের মধ্যে হতো। কিন্তু এবার এক কেজি পর্যন্ত ওজনের মাছও পাওয়া গেছে। স্বাভাবিকভাবেই সাগরের মাছ ইলিশের হাওরে বিচরণ নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, মূলত বন্যার কারণেই এবার হাওরে ইলিশের পরিমাণ বেশি। এই সুযোগে হাওরে ইলিশের চাষ সম্ভব কিনা সেই গবেষণাও শুরু করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
কুলাউড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হাকালুকি হাওরে প্রতিবছরই কমবেশি ইলিশ ধরা পড়ে। তবে দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কারণে এবার হাকালুকিতে পানি বেশি। কুশিয়ারা নদীর সঙ্গে এ হাওরের সংযোগ রয়েছে। কুশিয়ারা নদী দিয়ে ইলিশ হাওরে ঢুকছে। যার কারণে হাওরে ইলিশের উপস্থিতি বেশি।’ তবে এসব ইলিশের আকৃতি বড় নয় বলেও স্থানীয় জেলে ও মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে।
চৈত্রমাসের শেষ ও বৈশাখ মাসের শুরুর দিকে পাহাড়ি ঢলে হাকালুকি হাওরে বন্যা দেখা দেয়। এই ঢলের পানি হাকালুকি হাওর থেকে কুশিয়ারা নদী দিয়ে মেঘনায় মিলিত হয়।তখন মূলত ইলিশের প্রজনন মৌসুম থাকে। পানির স্রোত ধরে মেঘনা থেকে ইলিশ উজানে ছুটতে ছুটতে হাকালুকি হাওরে চলে আসে। আর এসব ইলিশ হাকালুকি হাওরের জেলেদের জালে ধরা পড়ে। তবে সরকারের নির্দেশনা অনুসারে গত ১ অক্টোবর থেকে ইলিশ শিকার বন্ধ আছে, আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত হাওরে ইলিশ শিকার বন্ধ রাখার পদক্ষেপ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
এদিকে ভরা মৌসুমে হাওরে ইলিশের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় মিঠা পানিতে ইলিশ চাষ সম্ভব কিনা তা জানতে ইতোমধ্যে গবেষণা শুরু করেছে বিশেষজ্ঞ দল। গত ৩০ অক্টোবর মৌলভীবাজার থেকে ইলিশের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে গেছেন ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন সদস্যের গবেষক দলটি। এ ব্যাপারে মৎস্য কর্মকর্তা মো. সুলতান মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিশেষজ্ঞ দলের কাছ থেকে রিপোর্ট পেতে এক থেকে দেড় মাস সময় লাগবে। ওই রিপোর্ট পাওয়ার পর বোঝা যাবে যে, মিঠা পানিতে ইলিশ চাষ সম্ভব হবে কিনা। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাকালুকি হাওর থেকে আহরণকৃত ইলিশ ল্যাবরেটরিতে নিয়ে কেমিক্যাল ও জেনেটিক পরীক্ষা চলছে।এর মাধ্যমে গবেষকরা মূলত পদ্মার ইলিশের সঙ্গে হাকালুকির ইলিশের মিল-অমিল খুঁজে বের করবেন। তাছাড়া মিঠা পানিতে ইলিশ চাষ সম্ভব কিনা বিষয়টিও দেখবেন।’
স্থানীয় ও মৎস্যজীবী সূত্রে জানা যায়, এবার যেসব ইলিশ ধরা পড়েছে সেগুলো আধা কেজির মতো ওজনের। তবে এসবের মধ্যে দুয়েকটা এক কেজি ওজনের ইলিশও পাওয়া গেছে। বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়া ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জসহ হাওরপাড়ের ছোট-বড় বিভিন্ন বাজারে এসব ইলিশ বিক্রিও হয়েছে।
বড়লেখা তালিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিদ্যুৎ কান্তি দাস বলেন, ‘দশ-বারো দিন আগে বাজারে ইলিশের পরিমাণ বেড়েছে। হাওরে জাল টানলেই দু’একটি করে ইলিশ মিলছে বলে জেলেরা জানিয়েছেন।’
৩০ সেপ্টেম্বর শনিবার তিন সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল হাকালুকি হাওর থেকে দিনব্যাপী ইলিশের নমুনা সংগ্রহ করেন। বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা হলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইফল্লাহ হাবিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈব রসায়ন এবং অনুজীববিদ্যা বিভাগের গবেষণা সহযোগী অভিজিৎ দাস ও অলি আহমদ।








