চট্টগ্রামে হেফাজত নেতাকর্মীদের হাতে দুই ক্যামেরা পারসনসহ তিন সাংবাদিক লাঞ্ছিত হয়েছেন। শুক্রবার (৬ অক্টোবর) বিকালে নগরীর লালদিঘি ময়দানে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের নিউজ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা লাঞ্ছিত হন।
হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকেও বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে অনাকাঙ্খিত এ ঘটনার জন্য দুঃখও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছে টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন।
লাঞ্ছনার শিকার তিন সাংবাদিক হলেন, চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের ক্যামেরা পারসন সেলিম উল্যাহ, একই চ্যানেলের রিপোর্টার জোবায়ের মনজুর ও বাংলাভিশনের ক্যামেরা পারসন সাইফুল ইসলাম।
ক্যামেরা পারসন সাইফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সমাবেশে হেফাজত নেতা মুফতি ইজহারকে বক্তব্য দিতে না দেওয়ায় সমাবেশের শেষ দিকে তার অনুসারীরা হট্টগোল শুরু করেন। এসময় সহকর্মী চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের ক্যামেরাপারসন সেলিম উল্যাহ ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। তখন হেফাজত নেতাকর্মীরা তাদের বাক-বিতণ্ডার বিষয়টি ভিডিও করা হচ্ছে ভেবে সেলিম উল্যাহের ওপর হামলে পড়েন এবং তাকে মারধর শুরু করেন। এসময় তাকে বাঁচাতে তার সহকর্মী রিপোর্টার জোবায়ের মনজুর এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। ওই দৃশ্য ধারণ করতে গেলে তারা আমাকেও লাঞ্ছিত করে।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ‘সাংবাদিকদের সঙ্গে একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে বলে আমি শুনেছি। আমি তখন ওখানে ছিলাম না, ঘটনার আগেই আমি সভাস্থল ত্যাগ করি।’
তিনি বলেন, ‘অনাকাঙ্খিত এ ঘটনার জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। সাংবাদিকদের সঙ্গে আমাদের হৃদ্যতাপূর্ণ সর্ম্পক ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।’
টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শফিক আহমেদ সজিব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘লালদীঘি ময়দানে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হেফাজতের কর্মীদের হাতে আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের দুই সদস্যসহ তিন জন সাংবাদিক শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং হামলার শিকার হয়েছেন। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’ এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।








