আসামির সঙ্গে নামে মিল থাকায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া এসএম জাহাঙ্গীর আলমের জামিন নামঞ্জুর করে দিয়েছেন আদালত। রবিবার (৮ অক্টোবর) জয়পুরহাটের মুখ্য বিচারিক হাকিম মোছাম্মত ইসমত আরা তার জামিন নামঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘নামের মিল থাকায় মূল আসামির বদলে জাহাঙ্গীরকে ভুল করে গ্রেফতার করে পুলিশ। এটা আদালতকে অবহিত করা হয়েছে। তবু কিছু আইনি জটিলতায় আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে দিয়েছেন। পুলিশ একটু দায়িত্ব নিয়ে কাজ করলে এ ধরণের দুঃখজনক ঘটনা ঘটে না।’
এসএম জাহাঙ্গীর আলম জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌরসদরের কলেজপাড়া মহল্লার বাসিন্দা। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে মাস্টার্স পাশ করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বুধবার (৪ অক্টোবর) রাতে প্রতারণার মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি ব্যবসায়ী এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে উজ্জ্বলের পরিবর্তে এসএম জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেফতার করে আক্কেলপুর থানার পুলিশ। পরে বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারেও পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তার বাবার নাম তোফাজ্জল হোসেন; মূল আসামির বাবার নামও তাই। তবে গ্রেফতার হওয়া জাহাঙ্গীরের ঠিকানা আক্কেলপুর পৌরসদরের কলেজপাড়া। আর মূল আসামি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে উজ্জ্বলের ঠিকানা আক্কেলপুর পৌরসদরের শান্তা গ্রাম; আক্কেলপুর কলেজ গেটের কাছে ‘সরদার ট্রেডার্স’ নামে তার একটা দোকানও রয়েছে, যা পরোয়ানায়ও উল্লেখ আছে।
থানা সূত্র জানায়, এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে উজ্জ্বল ঢাকা থেকে বাকিতে পণ্য এনে ব্যবসা করতো। বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেন ঢাকার ব্যবসায়ীরা। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার করে আদালতের নির্দেশে কারাগারেও পাঠানো হয়। পরে ঢাকার আদালতে সাত দিনের মধ্যে হাজির হওয়ার শর্তে জয়পুরহাট আদালত তাকে জামিন দেন। কিন্তু জামিন পাওয়ার পর সে আর আদালতে হাজির হয়নি। এতে ঢাকার আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ১১ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘নাম-ঠিকানায় মিল পাওয়ায় জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে শুনেছি, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি মূল আসামি নয়। এখন আমরা মূল আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।’
জয়পুরহাট পুলিশ সুপার রশীদুল হাসান বলেন, ‘ভুলে এ ঘটনা ঘটেছে। আমরা ভুলটা বুঝতেও পারছি। গ্রেফতার হওয়া নিরপরাধকে মুক্ত করার চেষ্টা চলছে।’








