নাটোরের লালপুর উপজেলার দুইটি ইউনিয়নে টর্নেডো আঘাত হেনেছে। ঘটনার পর সাত জনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে লালপুর উপজেলায় প্রায় ৫৫ সেকেন্ডব্যাপী এই টর্নেডো আঘাত করে। এসময় আরবাব ইউনিয়নের হাসিমপুর ও রঘুনাথপুরসহ ৯টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অপরদিকে লালপুর ইউনিয়নের মোমিনপুরসহসহ ঢুষপাড়া, রঘুনাথপুর গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। এসময় বিভিন্ন বাড়ি-ঘরের টিন উড়ে যায়। ভেঙে পড়ে শত শত গাছ। এসময় প্রায় ২০ জন মানুষ আহত হয়। উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয় ৭ জনকে।
আহতরা হলেন মোমিনপুর গ্রামের আকবর আলীর স্ত্রী আরজিনা খাতুন(৩০), আব্দুল হান্নানের মেয়ে মাহি(১০), ঢুষপাড়া গ্রামের সাদেদ আলীর মেয়ে শাবনাজ(১২), আমজের আলীর ছেলে মিজানুর রহমান(৪০), হাসিমপুর গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে আজেদ আলী(৩০), রঘুনাথপুর গ্রামের লুৎফর রহমানের স্ত্রী আরজিনা বেগম(২৫) ও মোহরকয়া গ্রামের সাজদার মন্ডলের স্ত্রী তৌহিদা বেগম(২৮)।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ এবং এসিল্যান্ড আবু তাহের। এসময় ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর মেরামতের জন্য ঢেউটিন ও খাদ্য সরবরাহের ঘোষণা দেন আবুল কালাম আজাদ।
লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসিবুল ইসলাম জানান, টর্নেডোর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আখ, ধান ও কলাসহ বিভিন্ন ফসল।
লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, প্রশাসনিকভাবে তাৎক্ষণিক ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। তালিকানুযায়ী আরবাব ইউনিয়নের হাসিমপুর ও রঘুনাথপুর গ্রামের ১৮২টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লালপুর ইউনিয়নের মোমিনপুর গ্রামের ৬০ টি পরিবার।
নজরুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা ও ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে জেলা প্রশাসনে পাঠানো হয়েছে। বুধবার জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৩০কেজি করে ডিআরএর সিদ্ধ চালের প্যাকেট দেবেন। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ঢেউটিন ও অর্থ সাহায্যের বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রাপ্তি সাপেক্ষে দ্রতসময়ের মধ্যে এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তাৎক্ষণিকভাবে আশ্রয়হীন মানুষদের রাত্রী যাপনের জন্য আরবাব ইউনিয়নের কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।








