নভেম্বর থেকে দুবলার চরে শুঁটকি সংগ্রহ শুরু

আবুল হাসান, মংলা
১১ অক্টোবর ২০১৭, ০৩:৫৪আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৭, ০৭:২৬

শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ

প্রতিবছর অক্টোবর থেকে বঙ্গোপসাগরের দুবলার চরে শুঁটকি তৈরির মৌসুম শুরু হয়। ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ থাকায় এবার নভেম্বর মাস থেকে তা শুরু হচ্ছে। আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত মংলা, রামপাল, খুলনা ও সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ উপকূলের কয়েক হাজার জেলে শুঁটকি তৈরির জন্য সাগরপাড়ে অস্থায়ী বসতি গড়ে তুলবে। এছাড়া চট্টগ্রাম অঞ্চলের জেলে ও মৎস্যজীবীরাও আসবেন এখানে।

পূর্বসুন্দরবনের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (ডিএফও) মাহমুদুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ১ নভেম্বর থেকে মৌসুমের শুরুতেই রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে বন বিভাগ। মংলা থেকে নদী পথে দুবলা জেলে পল্লির দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার। সুন্দরবন সংলগ্ন এ পল্লির সব কর্মকাণ্ড জেলেদের ঘিরে। সুন্দরবন অভ্যন্তরের ১৩ টি মৎস্য আহরণ, প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাতকরণ কেন্দ্র নিয়ে গঠিত দুবলা জেলে পল্লি।’

শুঁটকি তৈরির জন্য এরই মধ্যে বঙ্গোপসাগরের দুবলা, আলোরকোল, মেহেরআলী এবং শ্যালার চরসহ বেশকয়েকটি চর তারা পরিদর্শন করেছেন বলেও জানান তিনি।

শুঁটকির জন্য মাছ সংগ্রহ

কিন্তু জেলেদের অভিযোগ, দুবলার চরে যাওয়ার পথে এবং গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গেলে দস্যুদের কবলে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে থাকেন তারা। তাই চলতি মৌসুমে জেলেরা যাতে সাগরে নির্বিঘ্নে মাছ শিকার ও শুঁটকি তৈরি করতে পারে সেজন্য প্রশাসনকে নজরদারি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী জেলে ও মহাজনেরা।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলেদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে কাজ করেছে বন বিভাগ। আবেদনগুলো যাচাই চলছে, এরপরই নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে এ মাসেই জানানো হবে জেলেরা কতগুলো শুঁটকি প্রক্রিয়ার ঘর বা সাভার তৈরি করতে পারবেন। এমনকি ঘরের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ কতটুকু হবে তাও বলে দেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস ও জলদস্যুদের উৎপাতের আতংক মাথায় নিয়েই উপকূলীয় অঞ্চলের মৌসুমি জেলেরা জাল-নৌকা ও মাছ আহরণের উপকরণ নিয়ে সাগরপাড়ের জেলে পল্লিতে ছুটবে। জেলেদের নিরাপত্তা দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

শুঁটকি বানানোর প্রক্রিয়া

কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের (মংলা সদর দফতর) জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মহাম্মদ আলী চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান,  সুন্দরবন এবং সাগর এলাকায় সবসময় দস্যু দমন অভিযান অব্যাহত থাকে। তবে শুঁটকি আহরণের জন্য জেলেদের বাড়তি নিরাপত্তা দিতে আরও কঠোর থাকবে তার বাহিনী।

এদিকে মৎস্য আহরণ ও সমুদ্র যাত্রাকে ঘিরে উপকূলের জেলে পরিবারগুলোর মধ্যে নানা আমেজ বিরাজ করছে। এসব পরিবারে স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার পাশাপাশি ধর্মীয় বিধির হরেক রকম আনুষ্ঠানিকতাও চলছে। আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত এ মৌসুম চলার কথা রয়েছে।

প্রতি বছর মৌসুমে সাগর পাড়ের দুবলা, মেহের আলীর চর, আলোরকোল, অফিস কিল্লা, মাঝের কিল্লা, শেলার চর, নারকেল বাড়িয়া, ছোট আম বাড়িয়া, বড় আম বাড়িয়া, মানিক খালী, কবর খালী, চাপড়া খালীর চর, কোকিলমনি ও হলদাখালী চরে হাজার হাজার জেলে জড়ো হয়। এসব চরে অবস্থান নিয়ে জেলেরা সমুদ্র মোহনায় মৎস্য আহরণ করে। দুবলা জেলে পল্লির জেলেরা সেখানে নিজেদের থাকা ও শুঁটকি তৈরির জন্য অস্থায়ী ঘর তৈরি করে। জেলেরা সমুদ্র মোহনায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকারের পর তা শুঁটকি করে থাকে বলে জানা যায়।

 

 

/এনআই/এএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম