ঠেঙ্গারচরের মালিকানা দাবি সন্দ্বীপবাসীর

চট্টগ্রাম ব্যুরো
১২ অক্টোবর ২০১৭, ১৯:২২আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৭, ১৯:২৪

ঠেঙ্গারচরের মালিকানা দাবিতে সন্দ্বীপবাসীর মানববন্ধন (ছবি-চট্টগ্রাম ব্যুরো)

ঠেঙ্গারচরের মালিকানা দাবি করেছেন সন্দ্বীপের বাসিন্দারা। চলতি বছরের  ফেব্রুয়ারি মাসে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের পর বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) দ্বিতীয় দফায় সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন করে এ চরের মালিকানা দাবি করেন তারা।

সন্দ্বীপবাসীর দাবি, ঠেঙ্গাচর (ভাসানচর) সন্দ্বীপের সীমানায় জেগে ওঠা একটি চর। কিন্তু একে নোয়াখালীবাসীর মালিকাধীন বলে দাবি করা হচ্ছে। ঠেঙ্গারচর সন্দ্বীপের আদি ইউনিয়ন ন্যায়ামস্তীর অংশ। কিন্তু নানান কারণে সন্দ্বীপবাসীর দাবি না  মেনে এ চর’কে নোয়াখালী জেলার আওতাভুক্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) সকালে সন্দ্বীপের সারিকাইত ইউনিয়নের উপকূলীয় বেড়িবাঁধ এলাকায় অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে বক্তারা এ দাবি জানান। সন্দ্বীপের ‘জেগে উঠা ভূমি রক্ষা পরিষদ’-এর ব্যানারে এ সমাবেশে আয়োজন করা হয়। পরে একই দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন ওই সংগঠনের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেগে উঠা ভূমি রক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক লায়ন মিজানুর রহমান। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘জেগে ওঠা ঠেঙ্গারচর সন্দ্বীপের আদি ইউনিয়ন ন্যায়ামস্তীর অংশ। সন্দ্বীপের সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন মৌজা ন্যায়ামস্তী ১৯৫৩ সাল থেকে নদী ভাঙনের কবলে পড়ে। সর্বশেষ ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে মৌজাটি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যায়। ন্যায়ামস্তী ইউনিয়নের চারটি মৌজার মধ্যে সুলতানপুর, কমুলপুর, শরীফপুর ও পাঁচবাড়িয়া’র উল্লেখযোগ্য অংশ গত এক দশক ধরে সন্দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে জেগে ওঠে।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয়রা এ চরকে ন্যায়ামস্তী চর, ঠেঙ্গারচর অথবা ভাষানচর নামে ডাকতে থাকে দীর্ঘদিন ধরে। নিকটতম হওয়ার পাশাপাশি ভূমি জরিপ, নদী জরিপ, নক্শা ও খতিয়ান অনুযায়ীও ঠেঙ্গারচর বা ভাষানচর সন্দ্বীপের আওতাভুক্ত। কিন্তু নানান কারণে সন্দ্বীপবাসীর দাবি না মেনে চর’টিকে নোয়াখালী জেলার আওতাভুক্ত করা হয়েছে। সন্দ্বীপের বাসিন্দারা এই অন্যায় দাবি মেনে নেবে না।’ সন্দ্বীপবাসী নিজেদের হিস্যা বুঝে নিতে বৃহত্তর আন্দোলনের দিকে যাবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

উপকূলীয় বন বিভাগের তথ্য-উপাত্ত উত্থাপন করে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, বর্তমান ভাষানচর সন্দ্বীপের সাবেক ন্যায়ামস্তীর অংশ হিসেবে সন্দ্বীপ রেঞ্জের আওতায় বনায়ন করা হয়। ২০১৪ সালের ৬ জুন ন্যায়ামস্তী মৌজায় জেগে ওঠা চরের সাত হাজার (৭,০০০) একর জমি বনায়নের জন্য উপকূলীয় বন বিভাগের পক্ষে ৪ ও ৬ ধারার গেজেট প্রকাশ করা হয়। ওই গেজেট প্রকাশের তিন মাসের মধ্যে জমির সীমানা বা স্বত্ব ঘোষণার ব্যাপারে কোনও পক্ষ হতে কোনও দাবি দাখিল করা হয়নি। সন্দ্বীপের রেঞ্জ কর্মকর্তারা বিগত ১০ বছর ধরে ন্যায়ামস্তী চরে (ভাষানচর) বৃক্ষরোপণ করে আসছে। সর্বশেষ ২০০৯ সাল  থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দফায় এক হাজার ৫০ একর জমিতে ম্যানগ্রোভ বনায়ন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সারিকাইত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফকরুল ইসলাম পনির বলেন, ‘সন্দ্বীপের নিকটবর্তী একটি চর দীর্ঘদিন ধরে সন্দ্বীপের আওতাভুক্ত থাকার পরও হঠাৎ করেই নোয়াখালী বা হাতিয়া দ্বীপের অধীনে নিয়ে যাওয়ার চক্রান্ত চলছে। সন্দ্বীপের মানুষ এই অন্যায্য দাবি মেনে নেবে না। প্রয়োজনে ভাষানচরের মালিকানার দাবিতে সন্দ্বীপবাসী বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মগধরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম আনোয়ার, আজিমপুর ইউনিয়নের  চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আবুল হোসেন, সহ-সভাপতি কাজী ফসিউল আলম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রেজাউল করিম বাবুল, যুবলীগের সভাপতি ছিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুর রহমান, বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আনোয়ার হিরণ,  খেলাঘর সভাপতি অনিক কর পাপ্পু, আবাহনী ক্রীড়াচক্রের সফিকুল আজম, ইউপি সদস্য কাজী ফোরকান উদ্দিন, গোলাম কিবরিয়া, উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নাছেরসহ আরও অনেকে।

 

/এমএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম