মানিকগঞ্জের দৌলতপুর, শিবালয় ও হরিরামপুর উপজেলার ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা-যমুনা নদী পথের দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০ কিলোমিটার। এই বিশাল নদীপথ রক্ষায় তিন উপজেলায় জনবল রয়েছে মাত্র ১০ জন। এরমধ্যে শিবালয় উপজেলায় একজন ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মিলিয়ে মোট জনবল তিনজন। অপরদিকে, হরিরামপুর উপজেলায়ও রয়েছে তিনজন। এছাড়া দৌলতপুর উপজেলায় মৎস্য কর্মকর্তাসহ মোট জনবল চারজন। সব মিলিয়ে ১০ সদস্য দিয়ে চলছে সরকার ঘোষিত মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম। প্রয়োজনীয় লোকবল ও লজিস্টিক সাপোর্ট না থাকায় প্রায়ই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে। এদিকে, সরকার ঘোষিত এই সময়ে যেসব নিবন্ধিত মৎস্যজীবী ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকছে তাদের জন্য নেই কোনও অর্থ কিংবা খাদ্য সহায়তা।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নুরতাজুল হক স্বল্প জনবলের কথা স্বীকার করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মা ইলিশ রক্ষা মৌসুমের শুরু থেকে মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) পর্যন্ত তিন উপজেলায় ৩০৬ জন ইলিশ শিকারীকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৩১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৫৬ জনকে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ জনকে এক বছর করে কারাদণ্ড, ছয়জনকে এক মাস করে কারাদণ্ড, ৩৭ জনকে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড, একজনকে ১০ দিনের কারাদণ্ড ও ১৭ জনকে সাতদিনের জেল দেওয়া হয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নুরতাজুল হক আরও জানান, আটক ১৫৬ জনের কাছ থেকে পাঁচ লাখ ৬৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে, পদ্মা-যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে ইলিশ শিকারের সময় ১৮ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। যার বাজার মূল্য আনুমানিক প্রায় তিন কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, তিন উপজেলার ঘাট সংলগ্ন একটি প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় মৌসুমী জেলেরাই মূলত মা ইলিশ ধরার সঙ্গে জড়িত। টাকার বিনিময়ে নৌকা নামাতে অনুমতি দেয় এই প্রভাবশালীরা। পুলিশের অভিযানের আগাম সংবাদও দেয় তারা। ধরা পড়লে কম সাজা কিংবা টাকা-পয়সা দিয়ে ছাড়িয়ে আনার ব্যবস্থাও করে দেয়। পেশাদার জেলে সম্প্রদায় সাধারণত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নদী পথে চলাচলকারী মাছ ধরার কিংবা যাত্রীবাহী ট্রলারে সর্বোচ্চ ২২ হর্স পাওয়ারের ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এবার ইলিশ ধরার ট্রলারে ব্যবহার করা হচ্ছে ২৮ হর্স পাওয়ারের ইঞ্জিন। যার ফলে অবৈধ ইলিশ শিকারীরা সহজেই ফাঁকি দিতে পারছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানকে।
শিবালয় উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. রফিকুল আলম বাংলা টিবিউনকে জানান, মা ইলিশ ধরা ও বিক্রি, বিপণন বন্ধ করতে পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অফিসের যৌথ উদ্যোগে প্রায় প্রতিদিনই অভিযান চলছে।
মৎস্য বিভাগের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, প্রয়োজনীয় লোকবল ও লজিস্টিক সাপোর্ট না থাকায় প্রায়ই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় তাদের। মাঝে মধ্যে দু'একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটে।
এদিকে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল মোহাম্মদ রাশেদ জানান, নদীতে এ বছর সবচেয়ে বেশি মাছ মিলছে। এ কারণে অসাধু মৌসুমী জেলেরা অভিযানের আগে ও পরে সুযোগ বুঝে নদীতে নামছেন।
আরও পড়ুন:
রাজশাহীতে অভিযানের ফোঁকড় গলে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ








