যশোরে গত শুক্রবার উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত তরুণীর মরদেহের পরিচয় মিলেছে। তার নাম পার্বতী ওরফে নুসরাত জাহান (২৪)।
তিনি সম্প্রতি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং যশোর সদর উপজেলার মাহিদিয়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে নীরব ওরফে রাব্বির (২৬) সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন।
পার্বতী ওরফে নুসরাত যশোরের মণিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড় গ্রামের অধীর দাস ও যমুনা দাসের মেয়ে।
নিহত তরুণীর মা যমুনা দাস যশোর শহরের কুইন্স হাসপাতালের কর্মচারী। তিনি কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, নিরব ওরফে রাব্বি (২৬), মাহিদিয়া পশ্চিমপাড়ার লিয়াকত হোসেনের ছেলে বিপুল হোসেন (২৫) এবং শংকরপুর হিজড়াপাড়ার মিলন হিজড়া (২৭) তার মেয়ের হত্যার সঙ্গে জড়িত।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বছর সাতেক আগে মাগুরার শালিখা উপজেলার বৈখালী গ্রামের দ্বীন রায়ের ছেলে মহিতোষ রায়ের সঙ্গে পার্বতীর বিয়ে হয়। তাদের ঘরে অভি (৬) নামে একটি সন্তান আছে। অভি মাগুরাতেই থাকে। পার্বতীর সঙ্গে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বনিবনা না হওয়ায়, তিনি মায়ের কাছে থাকতেন। অভির জন্মের ১৬ মাস পর পার্বতীর স্বামী মহিতোষ ভারতে চলে যান এবং সেখানেই তিনি বসবাস করেন।
যমুনা দাস জানান, পার্বতী যশোরে এসে একটি গার্মেন্টে কাজ নেয়। সেখানে শিমুল নামে এক যুবকের মাধ্যমে নীরব ওরফে রাব্বির সঙ্গে বছর দুয়েক আগে পার্বতী পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মাস তিনেক আগে পার্বতী নিজ ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নুসরাত জাহান নাম নিয়ে রাব্বিকে বিয়ে করে। বিয়ের পর তারা ঝুমঝুমপুর এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতো।
থানায় দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, পার্বতী ও তার মা যমুনা বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে সুধীর বাবুর কাঠগোলার কাছে কালিপূজা দেখতে যান । সেখানে রাব্বিও যায়। এর কিছুক্ষণ পর একটি কালো রংয়ের মোটরসাইকেলে করে ওই মণ্ডপে আসে বিপুল ও মিলন হিজড়া। তারা সেখানে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ কথা বলে। এরপর পার্বতীকে নিয়ে রাব্বি মোটরসাইকেলে করে এবং বিপুল ও মিলন আলাদাভাবে চলে যায়।
তিনি জানান, রাতে পার্বতীর মোবাইল ফোনে কল করে বন্ধ পান। মেয়ে ফিরছে না দেখে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার ঝুমঝুমপুরের ভাড়া বাসায় যান যমুনা। কিন্তু ঘর বন্ধ পান। আশেপাশের লোকজনও কিছু বলতে পারেননি।
যমুনা লিখিত থানায় অভিযোগে জানান, শুক্রবার সকালে পার্বতীর বাবা রাব্বির বাড়িতে যান। কিন্তু সেখানে তাদের দেখা পাননি। এরপর সেখান থেকে তিনি পুলেরহাট বাজারে গিয়ে লোকমুখে জানতে পারেন, মালঞ্চির মুসার বান্দাল এলাকায় এক তরুণীর লাশ পাওয়া গেছে। এরপর বিষয়টি মোবাইল ফোনে জানালে যশোর জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে মেয়ের লাশ দেখতে পাই। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন এবং গলা কাটা ছিল।
যমুনার ধারণা,রাব্বি, বিপুল ও মিলন যোগসাজশ করে মালঞ্চি এলাকায় নিয়ে গিয়ে তার মেয়েকে হত্যা করেছে।
জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ওসি আজমল হুদা শনিবার বিকালে জানান, পার্বতী ওরফে নুসরাত হত্যায় জড়িত কাউকে এখনও আটক করা যায়নি। তাদের আটকে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।








