গাজীপুরের শ্রীপুরে দুই স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর আটকে রেখে পাশবিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বজনরা দু’ছাত্রীকে উদ্ধার ও অভিযুক্ত দুই তরুণকে আটক করে রবিবার (২২ অক্টোবর) রাত সাতটার দিকে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
আটকরা হলেন গাজীপুর জেলার শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা গ্রামের নুরুল হুদার ছেলে হানিফা (৩৫) ও একই গ্রামের হযরত আলীর ছেলে শাহিন আলম (১৮) ।
স্বজনরা জানান, ওই দুই ছাত্রী শ্রীপুর পৌর এলাকার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তারা ১৮ অক্টোবর নমুনা মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নিতে সকালে বাড়ি থেকে বের হন। এসময় অভিযুক্তরা ভয় দেখিয়ে ওই দুই ছাত্রীকে মোটরসাইকেলযোগে অপহরণ করে। তাদেরকে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার সীডস্টোর এলাকার একটি বহুতল ভবনে আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন করে।
এদিকে পরীক্ষার সময় শেষে হলেও বাড়ি না ফেরায় দুই ছাত্রীর পরিবারের লোকজন তাদেরকে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান পাননি। পরে ২০ অক্টোবর পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। কিন্তু পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে না নিয়ে অভিযুক্তদের পরিবারের লোকদেরকে ওই দু’ছাত্রীকে ফিরিয়ে দিতে বলে।
ওই দুই ছাত্রী জানান, অপহৃত হওয়ার পর ওই দুই তরুণের ফোন নিয়ে স্বজনদের কাছে ফোন করার চেষ্টা করেও তারা ব্যর্থ হন। এতে ধরা পড়ায় পাশবিক নির্যাতনের পাশাপাশি তাদেরকে মারধরও করত তারা। অপহরণের আগে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে প্রধান অভিযুক্ত হানিফা তাদের উত্ত্যক্ত করতো। বিষয়টি বাড়িতে জানালে ছাত্রীরাই তাদেরকে প্রেম প্রস্তাব দিয়েছে বলে অভিভাবকের কাছে উল্টো অভিযোগের ভয় দেখানোর কারণে ছাত্রীরা তাদের পরিবারকে উত্ত্যক্তের কথাও জানায়নি।
নির্যাতনের শিকার ওই দুই ছাত্রীর স্বজনরা জানায়, ১৯ অক্টোবর শুক্রবার হানিফা তার নাম পরিচয় গোপন করে এক ছাত্রীর ভাইয়ের নম্বরে ফোন করে। তারা (ওই দুই ছাত্রী) ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার একটি এলাকায় জিম্মি অবস্থায় রয়েছে বলে সে জানায়। ওই ফোন নম্বরের সূত্র ধরে ছাত্রীর স্বজনরা অভিযুক্ত হানিফার ফেসবুক আইডি উদ্ধার করে। পরে তাকে পুরস্কার ও ঘটনা সমাধানের আশ্বাস দেয়। এতে হানিফা ঘটনা স্বীকার করে ও ২২ অক্টোবর রবিবার বিকালে ভালুকা সীডস্টোর এলাকার বহুতল ভবনের একটি পাকা বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখান থেকে দুই ছাত্রীকে উদ্ধার ও এলাকাবাসীর সহায়তায় অভিযুক্তদের আটক করা হয়। পরে তাদেরকে উদ্ধার ও আটকদের (দু’অভিযুক্ত) ছাত্রীদের বাড়িতে এনে পুলিশকে খবর পাঠানো হয়।
শ্রীপুর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) লুৎফর রহমান জানান, এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। স্বজনরা অভিযুক্তদেরক রবিবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। অভিযুক্তরা পাশবিক নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছে। তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।








