সোনালী ব্যাংক কিশোরগঞ্জ প্রধান শাখায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে চলছে। ২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারি সুড়ঙ্গ পথে ব্যাংকের ভল্ট থেকে ১৬ কোটি ৪০ হাজার টাকা লোপাটের ঘটনা ঘটে। তিন বছর পর এবার ওই একই ব্যাংকে ঘটল আরেক জালিয়াতির ঘটনা। এবার রক্ষক নিজেই ভক্ষকের ভূমিকায়। ব্যাংকের ব্যবস্থাপক (এজিএম) সাইফুদ্দিন সবুজের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসএমই লোনের বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের টাকা হিসাব থেকে তুলে নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন ওই শাখার ম্যানেজার।
এ ঘটনায় সোনালী ব্যাংক কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) বাদী হয়ে অভিযুক্ত ব্যাংকের ব্যবস্থাপক (এজিএম)-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে সদর মডেল থানায় মামলা করেছেন। কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার শওকত জাহান বাংলা ট্রিবিউনকে মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ময়মনসিংহ অঞ্চলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর ভীতি তৈরি হয়েছে গ্রাহকদের মাঝে। আস্থার সংকটের কারণে প্রতিদিনই নিজেদের সঞ্চিত অর্থের খোঁজ নিতে ব্যাংকে ভিড় করছেন তারা।
জানা যায়, শহরের বিভিন্ন এলাকার আমানতকারী ঠিকাদার, ব্যবসায়ী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের এসএমই গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করে জালিয়াতির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ব্যাংকের এজিএম সাইফুদ্দিন সবুজ। এমনকি টাকা জমা দেওয়ার কথা বলে সিল ও স্বাক্ষর সম্বলিত রশিদ দেওয়ার পর টাকা জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন ম্যানেজার সাইফুদ্দিন সবুজ।
এ ঘটনার পর অভিযোগকারীরা বিষয়টি সুরাহার জন্য অডিট টিম ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে লিখিত আবেদন করেন। ঘটনা জানাজানি হয়ে পড়ায় প্রাথমিকভাবে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। কিন্তু আদেশ অনুযায়ী, ময়মনসিংহ জিএম অফিসে যোগদান না করে পালিয়ে যান তিনি।
ব্যাংকের বর্তমান ম্যানেজার মাহবুবুল ইসলাম খান জানান, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর গত দুই দিনে তার বিরুদ্ধে অসংখ্য গ্রাহকদের অভিযোগ পাওয়া পাচ্ছি। এখন পর্যন্ত কত টাকা খোয়া গেছে বলা যাচ্ছে না। অডিট এবং তদন্তের পর জানা যাবে গ্রাহকদের কি পরিমাণ টাকা খোয়া গেছে।
এ ব্যাপারে সোনালী ব্যাংকের কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) নূর মোহাম্মদ জানান, তিনি নিজে বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করেছেন। মামলায় প্রাথমিকভাবে দুটি ঘটনায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া পরে আরও যেসব অভিযোগ আসবে বা পাওয়া যাবে সেসবও এ মামলার অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার ইসমাইল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি অডিট টিম ঘটনা তদন্ত করছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে হাতিয়ে নেওয়া টাকার পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধান চাচ্ছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।








