বাগেরহাট শহরের ভিআইপি মোড় এলাকায় অবস্থিত খানজাহান আলী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিকার পেতে প্রতারণার শিকার ওই কলেজের ছাত্র সাইফুল ইসলাম বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।
সাইফুল ইসলামের অভিযোগ থেকে জানা গেছে, তিনি ২০১২ সালে ওই প্রতিষ্ঠানের ইলেকট্রিক্যাল বিভাগে ভর্তি হন। প্রথম সেমিস্টার থেকে সপ্তম সেমিস্টার পর্যন্ত কলেজের বেতন-ফি সময় মতো পরিশোধ করে তিনি নিয়মিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তিনি পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম সেমিস্টারে কয়েকটি বিষয়ে অকৃতকার্য হন। সম্প্রতি কলেজ থেকে সাইফুল ইসলামকে ফোন করে জানানো হয়, ২১ অক্টোবর সপ্তম সেমিস্টারের রেজিস্ট্রেশন ফরম পূরণের শেষ তারিখ। তিনি ওই দিন কলেজে গেলে তার কাছে চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম সেমিস্টারের ৫০ হাজার টাকা বকেয়া আছে বলে দাবি করা হয়। কিন্তু সব সেমিস্টারের টাকা শোধ করে প্রবেশপত্র নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা জানান তিনি। তাছাড়া কলেজের নিয়ম অনুসারে সেমিস্টার ফি বাকি রেখে পরীক্ষার প্রবেশপত্র দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন তিনি।
সাইফুলের অভিযোগ, সপ্তম সেমিস্টারে ৬৮৬৩ কোডের একটি বিষয়ে তাকে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে, কিন্তু এটি তার বিষয় না। এই বিষয়টি ঠিক করে দেওয়ার কথা বলে একাধিকবার তার কাছ থেকে পাঁচ হাজার করে টাকা নেওয়া হলেও তা ঠিক না করে ওই বিষয়ে তাকে অকৃতকার্য দেখানো হয়। তাছাড়া এই বিষয়টির জন্য তার এক বছর নষ্ট হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
সাইফুল আরও অভিযোগ করেন, ২০১৬ সালে স্কিলস প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ১২ হাজার পাঁচশ টাকা খরচ করে তিনি গ্রিড সোলার সিস্টেম তৈরি করে প্রদর্শন করেছিলেন। বিচারকরা তাকে দ্বিতীয় স্থান অধিকারের সনদ প্রদান করেন। কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ তাকে ওই প্রজেক্টের খরচের টাকা কলেজ থেকে দেওয়ার কথা বললেও পরে তা দেননি।
বাগেরহাট খানজাহান আলী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ওই কলেজের ইনচার্জ পরিচয় দিয়ে সমরুল আলম নামের একজন জানান, তিনি অল্প কয়েকদিন আগে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পেয়েছেন। অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলে এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘খুলনা খানজাহান আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ এই প্রতিষ্ঠানেরও অধ্যক্ষ।’
অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় শুনে সম্পাদকের চিঠি নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে বলেছেন।








