ফেনীতে দফায় দফায় বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কৃষকরা এখন নিঃশ্ব। গত শনি ও রবিবার টানা বৃষ্টিতে জেলার ৬ উপজেলার ৪ হাজার ৬১৮ হেক্টর জমির আমন ধান পানির নিচে চলে গেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. খালেদ কামাল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, গত শনি ও রবিবার টানা বৃষ্টিতে জেলার ৬ উপজেলায় চার হাজার ৬১৮ হেক্টর জমির আমন ধান পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১শ’ হেক্টর শীতকালীন সবজি। এর মধ্যে ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ সব চেয়ে বেশি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ফুলগাজীতে রোপা আমনের ক্ষতি হয়েছে ২ হাজার ৬শ’ হেক্টর ও ১০ হেক্টর সবজি। পরশুরামে রোপা আমনের ক্ষতি হয়েছে ২ হাজার ২৮০ হেক্টর ও ৩০ হেক্টর সবজি। এছাড়া ছাগলনাইয়ায় ৪৬৮ হেক্টর রোপা আমন ও ৫ হেক্টর সবজি, দাগনভূঞা উপজেলায় ১শ’ হেক্টর রোপা আমন ও ২৫ হেক্টর সবজি, সোনাগাজী উপজেলায় ১শ’ হেক্টর রোপা আমন ও ২৫ হেক্টর সবজি, সদর উপজেলায় ৭০ হেক্টর রোপা আমন ও ৫ হেক্টর সবজি পানিতে নিমজ্জিত হয়ে ক্ষতির শিকার হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. খালেদ কামাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে ফেনীতে দফায় দফায় বন্যায় কৃষকরা অনেকটা নিঃশ্ব। এর পর গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দিশাহারা হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় কি করা হবে তা জানতে মন্ত্রণালয় ও সরকারের কাছে দিক নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানির চাপে কহুয়া নদীর পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পরশুরাম উত্তর বাজারের ফিরোজ মজুমদারের বাড়ির সামনে বেড়ি বাঁধ ভেঙে গেছে। ওই স্থানে ভাঙনের কারণে ও অবিরাম বর্ষণে চিথলিয়া ইউনিয়নের মুহুরী নদীর ধনিকুন্ডা এবং নোয়াপুর নামক স্থানে ভাঙনের কারণে ধনিকুন্ডা, নোয়াপুর, অলকা, অনন্তপুর, রামপুর ও দুর্গাপুর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের কহুয়া নদীর বাগমাড়া ও টেটেশ্বর নামক স্থানে ভাঙনের কারণে উত্তর গুথুমা, বাঘমারা ও টেটেশ্বর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। একইভাবে ফুলগাজীর মুহুরী ও সিলোনিয়া নদীর ভেঙে যাওয়া বাঁধের স্থান দিয়ে পানি ঢুকে সদর ইউনিয়নের নিলক্ষি, গোসাইপুর, উত্তর শ্রীপুর, দেড়পাড়া, শাহাপাড়া, ঘনিয়ামোড়া, বাসুরা, গোসাইপুর, দৌলতপুর, মুন্সীরহাট ইউনিয়নের নোয়াপুর, করইয়া ও বদরপুর, তারালিয়া, কমুয়া, কামাল্লা, পৈথার, দরবারপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর, আমজাদ হাট ইউনিয়নের ধর্মপুর, মনিপুর, জিএমহাট ইউনিয়নের শ্রীচন্দ্রপুর, বশিকপুর গ্রামসহ ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া সোনাগাজীর উপকূলীয় এলাকায় বেশ কিছু এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
আরও পড়তে পারেন: গাইবান্ধায় এক রোহিঙ্গা নারী আটক








