গত বর্ষার বন্যা এখন সাপে বর হয়ে দেখা দিয়েছে আত্রাইয়ের শুঁটকিচাষিদের জন্য। বানের পানিতে শত শত পুকুরের চাষের মাছ ভেসে যাওয়ায় নদীতে এবার মাছের বিচরণ বেড়েছে। জাল টানলেই ধরাও পড়ছে বিভিন্ন রকমের দেশীয় প্রজাতির মাছ। আর এই মাছ দিয়ে শুঁটকি বানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। এলাকাজুড়ে চলছে শুঁটকি তৈরির ধুম। গত বছর আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত শুঁটকি ব্যবসায়ীরা এবার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কোমর বেঁধে শুঁটকি তৈরিতে নেমেছেন।
স্থানীয়রা জানান, এ বছর নদী ও খাল-বিলে প্রচুর মাছ পাওয়া যাচ্ছে। আর এ মাছগুলো প্রতিদিন ভোর থেকে বিক্রি হচ্ছে আত্রাই আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন-সংলগ্ন মাছ বাজার আড়তে। সস্তায় কাঁচা মাছ বিক্রি হচ্ছে। তাই শুঁটকি ব্যবসায়ীরা এবার উৎসাহ নিয়ে শুঁটকি তৈরি করছে।
শুঁটকি ব্যবসায়ী জাহেদুল ইসলাম জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্রাইয়ের শুঁটকির চাহিদা আছে। তিন মণ মাছ শুকালে এক মণের মতো শুঁটকি তৈরি হয়। এটা খুব কষ্টের কাজ। তবে লাভ ভালো হলে সব কষ্ট লাঘব হয়। তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলার ভরতেঁতুলিয়া গ্রাম শুঁটকি তৈরিতে বিশেষভাবে খ্যাত। এখানে শুঁটকি তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করা হয়। আর এ অর্থ দিয়ে সারা বছর পরিবার পরিজনের ভরণ-পোষণ চালিয়ে থাকেন এখানকার ব্যবসায়ীরা।’
ভরতেঁতুলিয়া গ্রামের শুঁটকি ব্যবসায়ী শ্রী রামপদ বলেন, ‘গত বছর প্রতি চালানেই আমাদের লোকসান গুনতে হয়েছে। শুঁটকি তৈরির মূলধনই আমরা তুলতে পারিনি। এ বছর মাছের চাহিদা বেশি এবং দামও তুলনামূলক কম থাকায় শুঁটকিতে লাভ ভালো হবে বলে আশা করছি।’ বিশেষ করে এবার পুঁটি, রাইখোর, চাঁন্দা, শোল, টাকি, বোয়াল প্রভৃতি প্রজাতির দেশি মাছ বেশি পাওয়ায় ব্যবসা ভাল হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ ব্যাপারে কথা হয় নাটোর থেকে আসা শুঁটকি ক্রেতা আলতাব হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দেশব্যাপী আত্রাইয়ের শুঁটকির চাহিদা রয়েছে। তাছাড়া দেশীয় প্রজাতির ছোট ও বড় মাছের শুঁটকি পাওয়া যায় বলে এখানে বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতারা শুঁটকি কিনতে আসেন।’ শুঁটকির মান অন্য যেকোনও জেলার চেয়ে ভাল বলেও জানান তিনি।
আত্রাই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুজ্জামান জানান, জেলার আত্রাই উপজেলা শুঁটকি মাছের জন্য বিখ্যাত। আত্রাই উপজেলা থেকে রেল, সড়ক ও নৌ-পথে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন শত শত টন মাছ বাজারজাত করা হয়। রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের সৈয়দপুর, রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁসহ দেশের প্রায় ১৮-২০টি জেলায় বাজারজাত হয় আত্রাইয়ের শুঁটকি। এই পেশাকে আরও আধুনিকায়ন করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মৎস্যজীবীদের বিভিন্ন রকমের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।’
বাজার ভালো থাকলে আত্রাই এলাকার মৎস্যজীবীরা এ বছর শুঁটকি বিক্রি করে গত বছরের তুলনায় বেশি লাভবান হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা বসতি গড়তে ১৬শ’ একর সামাজিক বনায়ন ধ্বংস
‘কুড়িগ্রাম কেন দারিদ্রের শীর্ষে’ জানতে চেয়ে মানববন্ধন








