মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিসে যুবলীগ নেতা বাচ্চুর বিরুদ্ধে বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আব্দুল বাসেতকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রবিবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে চকমিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামের সহযোগিতায় ওই সচিবকে উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার সময় যুবলীগের ওই নেতা নিজেকে বাঘুটিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে আব্দুল বাসেত বলেন, ‘চেয়ারম্যানের নির্দেশে রবিবার বিকালে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন যুবককে দেখতে পাই। এ সময় পিআইও অফিসের কয়েকজন স্টাফ আমাকে জানান, পরিস্থিতি ভালো না। এ সময় তারা আমাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে যেতে বলেন। এরপর সেখানে গিয়ে ইউএনও কানিজ ফাতেমাকে বিষয়টি খুলে বললে তিনি দুজন স্টাফকে সঙ্গে দিয়ে আমাকে বাড়ি পৌঁছে দিতে বলেন।’
বাসেত আরও বলেন, ‘‘আমরা ইউএনও অফিস থেকে নিচে নামতেই যুবলীগ নেতা বাচ্চু আমাকে শার্টের কলার ধরে টেনে নিয়ে যায় ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এ সময় সে ‘এমপি তোকে থানায় দিতে বলেছে’ বলে জানায়। উপজেলা চত্ত্বরে সবার সামনে বসিয়ে রেখে আমাকে নানাভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে চকমিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম লোক পাঠিয়ে আমাকে উদ্ধার করে তার পরিষদে নিয়ে যান।’
যুবলীগ নেতা বাচ্চুর সঙ্গে কোনও দ্বন্দ্ব ছিল কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে বাচ্চুর ব্যক্তিগত কোনও দ্বন্দ্ব নেই। তবে তার পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে কিছু বিষয়ে দ্বন্দ্ব থাকায় সে আমাকে লাঞ্ছিত করে থাকতে পারে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা বাচ্চু সাংবাদিকদের বলেন, ‘সচিব লাঞ্ছিতের অভিযোগ মিথ্যা। সচিবকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে সরকারি চাল চুরির অভিযোগ ছিল। সে বিষয়ে কথা বলতেই তাকে ডাকা হয়। কিন্তু সে আমাদের দেখেই দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করে।’
এ ব্যাপারে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কানিজ ফাতেমা বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানার পর সচিবকে পৌঁছে দিতে আমার দুজন স্টাফকে সঙ্গে দিয়েছিলাম। কিন্তু পরে সেখানে কী হয়েছে তা জানি না। যদি সচিবকে লাঞ্ছিত করা হয় তবে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’








