বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে পাওনা টাকার জন্য থানায় অভিযোগ করায় সংখ্যালঘু এক শ্রমজীবী নারীকে (২৪) প্রকাশ্যে যৌন নির্যাতনের পর মোবাইল ফোনে সেই দৃশ্য ভিডিও করেছে দুর্বৃত্তরা ।
রবিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে সান্তাহার-কায়েতপাড়া সড়কের তিয়রপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
নির্যাতিত নারীকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। খবর পেয়ে সোমবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে আদমদীঘি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরে তারা আনন্দ হালদার নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে।
আদমদীঘি থানার ওসি ওয়াহেদুজ্জামান জানান, ভিকটিম সুস্থ হলে মামলা হবে। এছাড়া, ডাক্তারি রিপোর্ট পেলে তাকে কিভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, তাও জানা যাবে।
ওই নারী এক সন্তানের মা। স্বামীর সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানায়, সান্তাহার ইউনিয়নের প্রসাদখালী গ্রামে ওই নারী তার মায়ের বাড়িতে থাকেন। তিনি গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পে শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। পাশাপাশি সুদের ওপর টাকা ধার দেন।
জানা যায়, প্রসাদখালী গ্রামের রাসেল নামের এক ব্যক্তি তার কাছ থেকে তিন হাজার টাকা ধার নেন। কিন্তু টাকা পরিশোধ না করায় প্রায় এক মাস আগে ওই নারী থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ গ্রামে গেলে রাসেল ক্ষুব্ধ হন। তিনি প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ খুঁজতে থাকেন। রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওই নারী বাড়ি থেকে হেঁটে কাজে যাচ্ছিলেন।
তিনি সান্তাহার-কায়েতপাড়া সড়কের তিয়রপাড়া গ্রামে পৌঁছলে সেখানে লুকিয়ে থাকা কাশিমিলা গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে শাহীন হোসেন জনি ওরফে জয়, একই গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে রকি হোসেন ও কানু হালদারের ছেলে আনন্দ হালদারসহ পাঁচ বখাটে তার পথরোধ করে। এরপর তারা সংঘবদ্ধভাবে ওই নারীর ওপরে যৌন নির্যাতন চালায়। তার গোপনাঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।
স্থানীয়রা জানায়, বখাটেরা নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হয়নি, মোবাইল ফোনে নির্যাতনের পুরো দৃশ্য ভিডিও করেছে। ঘটনার শিকার নারীর চিৎকারে পথচারীরা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নেওয়া হয়। অবস্থা খারাপ দেখে চিকিৎসকরা সেখানে নারীকে ভর্তি না করে নওগাঁ আধুনিক হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।
নির্যাতনের শিকার নারীর মা অভিযোগ করেছেন, এ সময় তিনি সান্তাহার ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল্লাহ আল মামুনকে জানিয়েও কোনও সহযোগিতা পাননি। এই ওয়ার্ড সদস্য সময়ক্ষেপণ ও ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তৎপরতা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে ইউপি সদস্য আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমি নির্যাতিত নারীর পরিবারকে আগে চিকিৎসা নিতে পরামর্শ দিয়েছি।’
সান্তাহার ইউপির চেয়ারম্যান এরশাদুল হক টুলু বলেন, ‘আমি আগে জানতাম না। আজই (সোমবার) শুনেছি।’
আদমদীঘি থানার ওসি ওয়াহেদুজ্জামান জানান, রাসেল নামের এক ব্যক্তির কাছে পাওনা সুদের টাকা না পেয়ে ওই নারী থানায় অভিযোগ করেছিলেন। পুলিশ গ্রামে গেলে রাসেল ক্ষিপ্ত হন। এর প্রতিশোধ নিতে তিনি নারীর পেছনে বখাটেদের লেলিয়ে দেন। তাকে রাস্তায় বিবস্ত্র করে যৌন হয়রানি করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, ওই ঘটনায় জড়িত আনন্দ হালদার নামের একজনকে সোমবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে আটক করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা হয়নি।








