২৬ হাজার এতিম রোহিঙ্গা শিশুর সুরক্ষায় বিশেষ শেল্টার হোম

আবদুল আজিজ, কক্সবাজার
৩১ অক্টোবর ২০১৭, ১৯:৫৪আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০১৭, ২০:২১

রোহিঙ্গা শিশু

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা এতিম শিশুদের সুরক্ষা দিতে জরিপের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় এই জরিপ পরিচালনা করছে কক্সবাজার সমাজসেবা অধিদফতর। চলমান এই জরিপ প্রক্রিয়ায় ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২৬ হাজার ৫৪৭ জন এতিম শিশুকে শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২৮ শতাংশ শিশুর মা-বাবা নেই। বাকিদের মা থাকলেও নেই বাবা। এসব এতিম রোহিঙ্গা শিশুর সুরক্ষার জন্য বিশেষ শেল্টার হোম তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার।

কক্সবাজার সমাজসেবা অধিদফতর অফিস সূত্র জানায়, মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতার কারণে আশ্রয়ের জন্য পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা অবস্থান নেয় কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয় শিবিরে। আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ছয় লাখেরও বেশি। এর মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।

স্বজনহারা এসব রোহিঙ্গাদের মধ্যে সবচেয়ে দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে শিশুরা। এদেরও বড় একটি অংশ হলো এতিম শিশু, যাদের মা-বাবা কিংবা কোনও স্বজন নেই। এসব এতিম শিশুদের সুরক্ষা দিতে সরকার বিশেষ কেন্দ্র তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই গত ২০ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা এতিম শিশুদের শনাক্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর এই জরিপ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

কক্সবাজার জেলা সমাজসেবা অধিদফতর কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইমরান খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এতিম শিশুদের শনাক্ত করার চলমান প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে এতিম শিশুদের জরিপ শেষ করার জন্য সরকারের নির্দেশনা রয়েছে। সেই অনুযায়ীই আমরা কাজ করছি।’ গতকাল (৩০ অক্টোবর) পর্যন্ত ২৬ হাজার ৫৪৭ জন এতিম শিশু শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।

ইমরান খান আরও বলেন,‘এতিম শিশুদের সুরক্ষায় উখিয়ার কুতুপালং মধুরছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুশ’ একর জমির বরাদ্দ করা হয়েছে। এই জমিতে তাদের জন্য আলাদা শেল্টার হোম তৈরি করা হবে। এতিম শিশুদের শনাক্ত করার কাজ শেষে তাদের পর্যায়ক্রমে নতুন তৈরি করা বিশেষ শেল্টার হোমে রাখা হবে।’

রোহিঙ্গা শিশু (ফাইল ছবি: কক্সবাজার প্রতিনিধি)

ব্যক্তি উদ্যোগে কেউ এতিম শিশুদের ক্যাম্পে লালন-পালন করতে চাইলে সেই সুযোগও থাকছে। এ ক্ষেত্রে সরকার আগ্রহীদের অর্থ সহায়তাও দেবে বলে জানান কক্সবাজার জেলা সমাজসেবা অধিদফতর কার্যালয়ের এই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, গত ২৪ আগস্ট রাতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় সেখানকার রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা শুরু করেন দেশটির সেনাবাহিনী। এ পরিস্থিতিতে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসতে থাকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ছয় লাখ সাত হাজার।

এসব রোহিঙ্গাদের জীবন বাঁচাতে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ সরকার। উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী পাহাড়ি এলাকায় প্রায় তিন হাজার একর জমিতে তাদের আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান, শিক্ষাসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় মা-বাবা ও স্বজনদের হারানো এতিম রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য আলাদা শেল্টার হোম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

/টিআর/টিএন/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম