পূর্ব সুন্দরবনের দুবলার চরের আলোরকোলে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব শুরু হচ্ছে আজ। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়ে শনিবার (৪ অক্টোবর) সমুদ্রের প্রথম জোয়ারের পানিতে পুণ্যার্থীদের পাপ মোচনের প্রত্যাশায় পূর্ণস্নানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ উৎসব।
আয়োজক কমিটির সূত্রে জানা যায়, এবার রাস মেলাকে ঘিরে সুন্দরবনের সাগরপাড়ের দুবলার চরে হাজার হাজার মানুষের মিলনমেলা বসতে শুরু করেছে। উৎসবে অংশ নিতে এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান ছাড়াও বিদেশ থেকে ছুটে আসছেন হিন্দু-মুসলমানসহ সব ধর্মের দর্শনার্থীরা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঊৎসব হিসাবে অনেক অস্থায়ী মন্দির তুলে রাধা-কৃষ্ণের প্রতিমাকে নতুন করে সাজানো হয়েছে।
উৎসবে অংশ নিতে নিরাপদে যাতায়াতের জন্য দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীদের জন্য সুন্দরবন বিভাগ আটটি পথ নির্ধারণ করেছে। এ সব পথে বন বিভাগ, পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ড বাহিনীর টহল দল নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। এদিকে রাস মেলায় হরিণসহ অন্য বন্যপ্রাণী নিধনের প্রতিরোধে বন বিভাগসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এ ব্যাপারে বন বিভাগের খুলনা (সুন্দরবন) সার্কেলের বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, গত বছর থেকে সুন্দরবনের দুবলার চরে রাস মেলায় আগতদের দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যারা রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে পূজা অর্চনা করবেন তাদের পুণ্যার্থী হিসাবে ধরা হয়েছে। পুণ্যার্থীদের তিন দিনের জন্য জনপ্রতি অনুমতি ফি ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অপরদিকে মেলা উপভোগ করার জন্য আগতদের দর্শনার্থী ধরা হয়েছে। দর্শনার্থীদের তিন দিনের জন্য জনপ্রতি অনুমতি ফি ২১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো মাহদুদুল হাসান বলেন, ‘মেলার দর্শনার্থীদের অগ্নেয়াস্ত্র-বিস্ফোরক দ্রব্য সঙ্গে নিতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হযেছে। এছাড়া রান্নার জন্য সৃন্দরবন থেকে কাঠ সংগ্রহ ও হাঁস- মুরগির মাংস ছাড়া সব ধরনের মাংস নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাস মেলায় কোনও ভাবেই যেন হরিণ শিকার ও বনজ সম্পদের ক্ষতি না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ পরিস্তিতি পর্যবেক্ষণে জেলা প্রশাসনের দুই জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
রাস উৎসব উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব সোমনাধ দে জানান, বঙ্গোপসাগর উপকূলে সুন্দরবনের দুবলার চরের আলোরকোলে বৃহস্পতিবার থেকে ১৩৪তম রাস উৎসব শুরু হবে। হিন্দু ধর্মালম্বীরা রাস পূর্ণিমার পরের দিন বঙ্গোপসাগরের প্রথম জোয়ারর পানিতে স্নান করলে পাপমোচন হবে এমন বিশ্বাস নিয়ে রাস উৎসবে যোগ দিয়ে থাকেন। কালের বিবর্তনে এখন তা সব ধর্মের মানুষরাই এখানে আসেন।
এ রাস উৎসবের সময় তিন দিনব্যাপী মেলায় কুটির শিল্পের বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।








