সোনাগাজীতে ঘূর্ণিঝড়ে নিঃস্ব পরিবারগুলো এখনও সহযোগিতা পায়নি

ফেনী প্রতিনিধি
০৪ নভেম্বর ২০১৭, ১৮:২০আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০১৭, ২০:০৯

ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার





ফেনীর উপকূলীয় উপজেলা সোনাগাজীতে ঘূর্ণিঝড়ে নিঃস্ব পরিবারগুলো এখনো পায়নি কোনও সরকারি-বেসরকারি সহযোগীতা। ক্ষতিগ্রস্তরা ঘরবাড়ি নির্মাণ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে। এখন খোলা আকাশের নীচে অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন পার করছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
অন্যদিকে, ইরি-বোরোর ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই এলাকার কৃষকেরা এখন দিশাহারা।
উপজেলার পূর্ব বড়ধলী গ্রামের আবুল কালাম বলেন, ‘গেলো বছর নদী ভাঙনে ঘর বাড়ি হারিয়ে এ পাড়ায় বসত গড়েছিলেন তিনি। আরেক জনের জমিতে  তৈরি দোচালা ঘরই ছিল তার বেঁচে থাকার শেষ সম্বল। জোয়ারের পারি তার ঘরটি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।
একই ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ওই পাড়ার রেহানা আক্তার, জরিনা খাতুন ও আবদুল মান্নানের পরিবার। তারা বলেন, ‘আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানকালে ত্রাণ সহায়তা পেয়েছি। লণ্ডভণ্ড ঘরবাড়ি ঠিক করার জন্য সরকারিভাবে কোনও সাহায্য পাইনি। এমনকি কোনও এনজিও ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও খোঁজ নেয়নি। পরিবার-পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছি।

ঘূর্ণিঝড় ও জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে ঘর বাড়ি রাস্তা ঘাট
চর খোন্দকার কৃষ্ণ চন্দ্র দাস বলেন, ‘ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। ঘরের বিভিন্ন অংশ জোড়াতালি দিয়ে কোনও রকমে থাকার ব্যবস্থা করেছি। তবে অভাব-অনটনের মধ্যে আছি। সন্তানদের নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন পার করছি।’
দক্ষিণ চরচান্দিয়া জেলে পাড়ার শুকলা রানী জল দাস জানান, জোয়ারের পানিতে তার ঘরের সবকিছু ভেসে গেছে। ভিটে-মাটি ছাড়া এখন আর কিছুই নেই। বাড়ি নির্মাণের জন্য অনেক টাকার দরকার। কোনও সাহায্য সহযোগিতা না পাওয়ায় সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে আছেন।
সদর ইউনিয়নের চর খোন্দকার গ্রামের মো. মাসুদ জানান, জোয়ারের পানিতে তার ঘেরের পাড় ভেঙে তার প্রায় ত্রিশ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে।

ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যে মানবেতর জীবন যাপন করছে স্বীকার করে চর চান্দিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মিলন বলেন, ‘আমি পিআইও এবং ইউএনও স্যারকে জানিয়েছি কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিনহাজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঝড়ে সোনাগাজীর তিনটি ইউনিয়নের সাড়ে পাঁচশ’ ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারি সহায়তার জন্য ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই সরকারি বরাদ্ধ পাওয়া যাবে। বরাদ্ধ পেলে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে।’

ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতিগ্রস্তরা নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছেন
উল্লেখ্য গত ২১ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড় ও জোয়ারের পানিতে সোনাগাজি উপজেলার পাঁচ শতাধিক ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ পূর্ব চরচান্দিয়া, পূর্ব চরচান্দিয়া, দক্ষিণ চরচান্দিয়া, পূর্ব বড়ধলী, সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের চর খোন্দকার, জেলে পাড়ায় সবচেয়ে বেশি ঘর-বাড়িসহ ইরি-বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। শত শত পুকুর ও মৎস্য খামার থেকে কোটি কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। এতে লোকজন ঘর-বাড়ি আসবাবপত্র হারিয়ে অসহায় হয়ে গেছে। পানিতে ভিজে ঘরে থাকা চাল নষ্ট হয়ে গেছে। ছেলে-মেয়েদের বই-খাতাসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে।

 আরও পড়ুন: রাজবাড়ীতে লোডশেডিংয়ে বিসিক শিল্প নগরীর উৎপাদন ব্যাহত

/জেবি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম