খুলনার রূপসা উপজেলার দেয়াড়া গ্রামের শেখ নিয়ামুল করিমকে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার নাদিম পেয়াদা (২৮) রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। শনিবার (৪ নভেম্বর) রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনে নাদিম খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম রওশন আরা রহমানের আদালতে এ জবানবন্দি প্রদান করে। তদন্ত কর্মকর্তা রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) ইন্সপেক্টর আব্দুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আব্দুর রহমান বলেন, ‘নাদিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এরপর তাকে খুলনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। তবে অন্য আসামি সাইফুল ইসলামকে (বড়)তিন দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। তাকে রবিবার আদালতে হাজির করা হবে।’
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, জবানবন্দিতে নাদিম জানিয়েছে, ৩০ অক্টোবর নিয়ামুলকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায়ে নিয়ামুল অচেতন হয়ে পড়েন। এরপরও তাকে ছাড়েনি দলনেতা হান্নান। নিয়ামুলের স্বজনরা তাকে নিতে আসলে হান্নান এক লাখ টাকা দাবি করে। তখন স্বজনরা নিয়ামুলকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করার পর টাকার ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বাস দেন। তারপর নিয়ামুলকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ৩০ অক্টোবর বিকালে রূপসা উপজেলার দেয়াড়া গ্রামের খেজুরতলা সংলগ্ন জুনায়েদের ডকইয়ার্ডে একটি বট গাছের সঙ্গে বেঁধে নিয়ামুল করিমকে নির্যাতন করা হয়। তিনি খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩১ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মারা যান। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই নিহত নিয়ামুল করিমের পিতা শেখ সাইদুল করিম বাদী হয়ে হান্নানসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।








