‘পাখি ও প্রকৃতির সুরক্ষায় আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এজন্য চাই বেশি বেশি প্রচারণা। টানা তিন দিন সাইকেল চালিয়ে ভ্রমণ করেছি চার জেলা। সামনে পাখি ও প্রকৃতি বাঁচানোর আহ্বান জানাতে সাইকেল চালিয়ে গোটা দেশ ভ্রমণ করতে চাই।’
‘পাখি বাঁচাও, প্রকৃতি বাঁচাও’ -স্লোগানকে বেগবান করতে সম্প্রতি বাইসাইকেল চালিয়ে দেশের চারটি জেলা ঘোরার পর নিজের প্রতিক্রিয়া এভাবেই ব্যাখ্যা করলেন আলমগীর হোসেন।
পিঠে লাল সবুজের পতাকা, গলায় হ্যান্ড মাইক ঝোলানো। গায়ে বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত টি-শার্ট, হাতে সচেতনতামূলক লিফলেট। এ নিয়ে বাইসাইকেলে চেপে সৈয়দপুর থেকে তেতুলিয়ায় ক্যাম্পিং করেছেন নীলফামারীর আলমগীর হোসেন। যাত্রাপথে তিনি বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও হাট-বাজারে আলোচনা সভা ও লিফলেট বিতরণ করেন। এসময় তিনি পাখি ও প্রকৃতির গুরুত্ব সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন।
গত ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর উত্তরাঞ্চলের চার জেলা নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাঁকুরগঁও ও পঞ্চগড় ভ্রমণ করেন তিনি। আলমগীর সৈয়দপুর উপজেলার খাতা মধুপুর ইউনিয়নের সেকেন্দার আলীর ছেলে।
যাত্রার প্রথম দিন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) পরিমল কুমার সরকার আলমগীরের সাইকেল ভ্রমণের উদ্বোধন করেন। এদিন সে সাইকেল চালিয়ে সৈয়দপুর থেকে ঠাকুরগাঁও সদরে পৌঁছান। পথে রাবেয়া, চম্পাতলি, রানীর বন্দর, বেকুপুল বাজার, ভূষিরবন্দর, দশমাইল ও ঠাকুরগাঁও সদরে তিনি বেশ কয়েকটি পথসভা করেন।
ক্যাম্পিংয়ের দ্বিতীয় দিন তিনি ঠাকুরগাঁও থেকে সাইকেল চালিয়ে পঞ্চগড় যান। এসময় ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক চত্বর, চিনিকল বাজার, শহীদ মিনার চত্বর, কান্তজির মন্দির বাজার ও তেতুলিয়া বাজারেও পথসভা করেন তিনি।
ক্যাম্পিংয়ের তৃতীয় ও শেষদিন পঞ্চগড় থেকে বাংলাবান্দা জিরো পয়েন্ট যাওয়ার পথে স্থানীয় একদল স্বেচ্ছাসেবক আলমগীরের এ পথচলায় সঙ্গী হন। তারা একত্রে পথচারীদের মাঝে সচেতনতামূলক কয়েক হাজার লিফলেট বিতরণ করেন। বিকালে তাকে তেতুলিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রাজিয়া সুলতানা অভিবাদন জানিয়ে তিন দিনের এ সাইকেল যাত্রার সমাপনী ঘোষণা করেন।
এছাড়াও পাখি ও প্রকৃতি বাঁচাতে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টিতে আলমগীর তিন দিনের এ সাইকেল যাত্রাপথে আলোকডিহি জেবি উচ্চ বিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও জিলা স্কুল, দশমাইল দ্বিমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বেগম খালেদা জিয়া বালিকা বিদ্যালয়, দশমাইল উচ্চ বিদ্যালয় ও তেতুলিয়া ডিগ্রি কলেজে আলোচনা সভা করেন।
‘পাখি বাঁচাও, প্রকৃতি বাঁচাও’- নামে এ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খালেদ রহীম, পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক অমল কৃষ্ণ মন্ডল, সৈয়দপুর পৌরসভা মেয়র আমজাদ হোসেন সরকার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন, বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, তেতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানিউল ফেরদৌস উদ্যমী যুবক আলমগীর হোসেনকে সাধুবাদ জানান।
আলমগীর গত বছর নীলফামারীর সৈয়দপুরজুড়ে গাছে গাছে মাটির কলস লাগান। তার লাগানো কলসে পাখিরা বসবাস করে এবং বংশবিস্তার ঘটায়। এরই ফলস্বরূপ আলমগীর হোসেন ‘পাখি সংরক্ষণ সম্মাননা-২০১৬’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
২০১৩ সালে পাখি সুরক্ষা ও পাখির নিরাপদ আবাসন গড়ে দিতে ‘সেতুবন্ধন’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।








