বরিশাল নগরের নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে উধাও হওয়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাড়ে ৯শ’ সাদা খাতা (উওরপত্র) তিন দিনেও উদ্ধার হয়নি। এছাড়া এখনও উত্তরপত্র বহনকারী অটোরিকশাসহ চালকের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
গত শনিবার দুপুরে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ডিগ্রি পাস ও সার্টিফিকেট কোর্স-২০১৬ এর সাড়ে ৯শ’ সাদা-উত্তরপত্র খোয়া গেছে।
পুলিশ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বরিশাল আঞ্চলিক কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার ডি. কে আইডিয়াল সৈয়দ আতাহার আলী একাডেমি অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের জন্য শনিবার দুপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বরিশাল আঞ্চলিক কেন্দ্র থেকে সাদা-উত্তরপত্র নিয়ে মাদারীপুর যাওয়ার জন্য ওই কলেজের প্রভাষক মহিউদ্দিন তালুকদার ভাড়া অটোরিকশায় করে নতুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ডে আসেন।
নতুল্লাবাদ পৌঁছে তিনি উত্তরপত্রগুলো অটোরিকশায় রেখে চালককে দাঁড়াতে বলে টিকিট কাটার জন্য বাস কাউন্টারে যান। ফির এসে দেখেন উত্তরপত্রসহ অটোরিকশাটি উধাও।
প্রভাষক তালুকদার মহিউদ্দিন জানান, তার কলেজের পরীক্ষা কেন্দ্রের জন্য ৫৫০টি সাদা-উত্তরপত্র ও অতিরিক্ত ৪০০টি উত্তরপত্র ছিল। তিনি ঘটনার পরপরই ট্রাফিক পুলিশের সহায়তা নেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। অনেক খোজাখুজির পরও সন্ধান না পেয়ে এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বরিশাল আঞ্চলিক পরিচালক ড. অলক কুমার সাহা বলেন,‘পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয় উত্তরপত্রসহ অটোরিক্শা চালক উধাও হওয়ার পরই ওই শিক্ষক বিষয়টি তাদের জানিয়েছেন। পাশাপাশি সাধারণ ডায়েরির একটি কপিও দিয়েছেন। অটোরিকশায় উত্তরপত্র রেখে টিকিট কাটতে যাওয়াটা দায়িত্বে অবহেলা। ওই কেন্দ্রের পরীক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে চালু রাখতে নতুন করে উত্তরপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। ’
তিনি আরও বলেন, ‘অটোরিকশা চালক সৎ না অসৎ উদ্দেশ্যে এগুলো নিয়ে গেছেন তা বলা যাচ্ছে না। শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়ায় সাদা উত্তরপত্র কেউ সংগ্রহ বা বিক্রি করতে পারবে না।’
এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি জানার পরপরই পুলিশ পরীক্ষার উত্তরপত্র উদ্ধারে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। তবে মঙ্গলবার এ রিপোর্ট লেখা পর্র্যন্ত এর কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: ভেঙে ফেলা হবে শতাব্দী প্রাচীন রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগার ভবন








