দিনাজপুরে জেলা বাস মালিক ও মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকা অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শুধু বাস বন্ধ থাকলেও শুক্রবার থেকে সব ধরনের যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের জের ধরে বুধবার রাতে জেলা বাস মালিক ও মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের আহ্বানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং দিনাজপুর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ ও দিনাজপুর জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সমঝোতা বৈঠকে বসেন। কিন্তু কোনও সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় সেই বৈঠক। এ কারণে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে।
হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসকে সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে বুধবার সন্ধ্যায় ছাত্রদের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। এরপর বাস টার্মিনাল এলাকায় শিক্ষার্থীরা শ্রমিকদের ওপর হামলাসহ দু’টি বাসে আগুন দেয় বলে অভিযোগ তুলে শ্রমিকরা ধর্মঘটের ডাক দেন।
পরে বৃহস্পতিবার রাতে যানবাহন ভাঙচুর ও বাসে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম শেলু বাদী হয়ে হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. খালিদ হোসেন, সহকারী প্রক্টর সৌরভ পাল চৌধুরী, ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর শাহাদৎ হোসেন খানসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। একই দিন শ্রমিকদের ওপর হামলা ও মারপিটের অভিযোগে জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি সাইফুর রাজ চৌধুরী বাদী হয়ে একই আসামিদের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫০ জনকে আসামি করে আরও একটি মামলা দায়ের করেন। এদিকে, ওই দিন রাতেই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও মারপিটের অভিযোগে মটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম. রফিক, সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বীসহ ৪ জনের নাম দিয়ে অজ্ঞাত আরও ৪০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. শফিউল আলম।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ঘটনার অনুসন্ধানে দিনাজপুর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালক ইমতিয়াজ হোসেনকে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৩ দিনের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
মটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম. রফিক বলেন, ‘এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমাদের পাঁচটি বাস ভাঙচুর করে। জন দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে তখন আন্দোলনের ডাক দেওয়া হলেও তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এবার আর ছাড় দেওয়া হবে না।’
দিনাজপুর সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম সেলু বলেন, ‘ভাঙচুর করা যানবাহনের ক্ষতিপূরণ না দেওয়া হলে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় না আনা হলে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হবে না। ইতোমধ্যেই রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে আলাপ-আলোচনা চলছে।’
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. শফিউল আলম বলেন, ‘পরিবহণ শ্রমিক ও মালিক পক্ষের আন্দোলন যৌক্তিক নয়। রাতে কে বা কারা বাসে অগ্নিসংযোগ করেছে, তা কেউ জানে না।’
দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম বলেন, ‘উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে আশা করছি।’








