রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কলেজছাত্র নয়ন ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যাননি। প্রেমঘটিত কারণেই তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল।
শনিবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে রংপুর নগরীর কেরানীপাড়া মহল্লায় অবস্থিত পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন, পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আব্দুল মজিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল্লা কাওছার, মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক হোসেন আলীসহ অনেকে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আব্দুল মজিদ জানান, নয়ন গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পীরগাছা উপজেলার সোনারায় গ্রামের বাসিন্দা। এ গ্রামের পাশ্ববর্তী তাম্বুলপুর ফকিরের পাড়ার এক মেয়ের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। বিষয়টি জানতে পেরে নয়নের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে রুনির পরিবার। ২০১৪ সালের ৬ এপ্রিল নিজ গ্রাম সোনারায়ের বাড়িতে আসেন নয়ন। ওই দিনই রাত সাড়ে ১০টার দিকে নয়নকে ফোন করে মেয়েটি এবং তাদের বাড়িতে আসতে বলে। নয়ন তার বন্ধু তুষারকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাড়িতে যান।
আব্দুল মজিদ আরও জানান, মেয়েটির বাড়িতে গেলে নয়নকে অস্ত্রের মুখে আটক করে তার পরিবার সদস্যরা। পরে বাড়ির অদূরের একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয় নয়নকে। এরপর ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে রেললাইনে মরদেহ রেখে ট্রেনে কাটা পড়ে নয়নের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচারণা চালানো হয়।
পুলিশ সুপার জানান, এ ঘটনায় নিহত নয়নের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০১৪ সালের ১৪ এপ্রিল ছয় জনকে আসামি করে বোনারপাড়া রেলওয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে বোনারপাড়া রেলওয়ে পুলিশ, পরে সিআইডি এবং সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম তদন্ত করে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে। পরবর্তী সময়ে বাদীর নারাজির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি পিবিআই রংপুর জেলাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলার তদন্তভার পেয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক হোসেন আলী ঘটনার সঙ্গে জড়িত এজাহারভুক্ত আসামি জুয়েলকে গত ২৩ নভেম্বর গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জুয়েল ঘটনায় তার জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয় এবং কিলিং মিশনে অংশ নেওয়াদের নাম-ঠিকানা জানায়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে এ মামলার আসামি তুষারকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান, কিলিং মিশনে অংশ নিয়েছিল মোট ৭ জন। এরা সবাই মেয়েটির স্বজন। তাদের গ্রেফতার করার জন্য অভিযান চলছে।








