সব দিক থেকেই দেশ অনেক এগিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেছেন, ‘দেশের কৃষিতে বিপ্লব হয়েছে। আইসিটি সেক্টরে প্রচুর দক্ষ মানুষ তৈরি হচ্ছে। সব সেক্টরেই উন্নয়ন হচ্ছে। তবে শিক্ষার মান অনেক নিচে নেমে গেছে। এছাড়া দেশে গণতন্ত্রের চর্চা নেই।’
বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজশাহী প্রেসক্লাবে আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘দেশের উন্নয়নে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা অনেক। তারা এখন অনেক বেশি দক্ষ। পৃথিবীময় ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বে তারা দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। জ্ঞান-বিজ্ঞানে শিক্ষিত হয়ে তারা দেশের জন্যও কাজ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন যত্রতত্র প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটছে। অভিভাবকরাও হন্য হয়ে প্রশ্ন কেনার জন্য ছুটছেন। বেশিরভাগ সময় শিক্ষা নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় ঘুষের বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগ চলছে। শিক্ষক-ছাত্ররা মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে।’
মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘গণতন্ত্রের চর্চা না থাকায় নতুন নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না। এজন্য ডাকসু, রাকসু, চাকুসসহ সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ছাত্র সংসদের নির্বাচন দেওয়া উচিত। এতে করে মেধাবী ও যোগ্য নেতৃত্ব ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হবে।’
তিনি বলেন, ‘কৃষিতে বিপ্লব হলেও অর্থনীতি সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। দেশে ব্যাংকি সিস্টেম বলে কিছু নেই। সব রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার পথে। দুয়েকটি ছাড়া সব বেসরকারি ব্যাংকের অবস্থাই করুণ। এ জন্য অর্থমন্ত্রীর গাফিলতি দায়ী।’
দেশে দুই কোটি শিক্ষিত বেকার রয়েছে দাবি করে মিনু বলেন, ‘বেকারদের অর্থনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করা না হলে যে কোনও মুহূর্তে এরা শাহবাগের মতো গণআন্দোলনের জন্ম দেবে।’ তিনি বলেন, ‘রাজনীতিবিদরাও নষ্ট হয়ে গেছেন। আগে যেসব রাজনীতিবিদের কথা শুনতাম, অনুসরণ করতাম, এখন তাদের বক্তব্য শুনলে মনে হয়, তারা ঝগড়া করছেন। এর কারণ রাজনীতিতে গণতন্ত্র না থাকা।’
নির্বাচন প্রসঙ্গে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘বিএনপি সবসময় নির্বাচনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। তবে সেই নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে। এজন্য সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে।’








