ভালো দাম পাওয়ার আশায় হিমাগারে আলু রেখে এখন বিপাকে পড়েছেন গাইবান্ধার ব্যবসায়ী ও চাষিরা। বাজারে দাম ও চাহিদা না থাকায় তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। বিক্রি করতে না পারায় হিমাগারে পড়ে আছে তাদের হাজার হাজার বস্তা আলু। এতে প্রতিদিনই হিমাগার ভাড়া বাড়ছে। এদিকে, আলু সংরক্ষণের ভাড়া এবং কৃষক-ব্যবসায়ীকে দেওয়া ঋণ আদায় করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন হিমাগারের মালিকরা। হিমাগার মালিকরা জানান, বর্তমান দামে আলু বিক্রি করলে খরচের টাকা উঠবে না। তাই হিমাগার থেকে তারা আলু তুলছেন না কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
আলু সংরক্ষণের জন্য গাইবান্ধায় ৩টি হিমাগার রয়েছে। এর মধ্যে সাদুল্যাপুরের ধাপেরহাটে রয়েছে আরভি কোল্ড স্টোরেজ, গোবিন্দগঞ্জে রয়েছে হিমাদ্রি হিমাগার ও গোবিন্দগঞ্জ রয়েছে কোল্ড স্টোরেজ। গত মৌসুমে চাষী ও ব্যবসায়ীরা এ হিমাগার ৩টিতে আলু মজুদ রাখেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আরভি কোল্ড স্টোরেজে ৮ হাজার, হিমাদ্রি হিমাগারে ১৩ হাজার ও কোল্ড স্টোরেজে ২০ হাজার বস্তা আলু অবিক্রিত রয়েছে।
চাষি-ব্যবসায়ীরা জানান, এ বছর হিমাগার থেকে আলু উত্তোলন শুরুর দিকে বাজারে দাম ভালোই ছিল। কিন্তু গত এক মাস ধরে বাজারে আলুর দাম পড়তে থাকে। বর্তমানে হিমাগারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৫-৬ টাকায়। হিমাগারে রাখা প্রতি বস্তায় ৮৫ কেজি আলু রয়েছে। এক বস্তা আলু সাড়ে ৪শ’ টাকা থেকে সাড়ে ৫শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ মৌসুমের শুরুতে কৃষক-ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি আলু ১৫-২০ টাকায় কিনেছেন। প্রতিটি বস্তায় কৃষকের খরচ হয়েছে ১৩শ’ থেকে ১৫শ’ টাকা।
এদিকে, আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন হিমাগার মালিকরাও। বর্তমানে ৩টি হিমাগারে ৪১ হাজার আলুর বস্তা বিক্রি না হওয়ায় কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।
আরভি কোল্ড স্টোরেজে আলু রেখেছেন ফরিদপুর গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বেশি লাভের আশায় অন্যান্য বছরের মতো এবারও হিমাগারে আলু মজুদ করি। কিন্তু বাজারে বর্তমানে ৫-৬ টাকা কেজিতে আলু বিক্রি হচ্ছে। লোকসান হওয়ায় হিমাগার থেকে আলুর বস্তা তুলছি’।
চাষি মইনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতি বস্তায় আমাদের লোকসান হচ্ছে ৯শ’ থেকে ১১শ’ টাকা পর্যন্ত। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছি। লাভের আশায় এখন পুঁজি হারানোর অবস্থা।’
আলু ব্যবসায়ী আনারুল ইসলাম বলেন, ‘হিমাগারে আমার ৩শ’ বস্তা আলু রয়েছে। আলু বিক্রি করতে না পারলে এবার আমার ৩-৪ লাখ টাকা লোকসান হবে।’
আরভি কোল্ড স্টোরেজের ম্যানেজার মো. হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারে দাম ভালো না থাকায় চাষী ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি কোটি টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে হিমাগার মালিকদের। বর্তমানে হিমাগারে থাকা হাজার হাজার বস্তা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। আলু মজুদের সময় কোটি কোটি টাকা ঋণ দিয়েছেন চাষী ও ব্যবসায়ীদের। কৃষকের লোকসানের কথা ভেবে ঋণের সুদ মওকুফসহ বিভিন্নভাবে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তারপরেও আলু বিক্রিতে সাড়া পাচ্ছেন না হিমাগার মালিকরা।’








