বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে রোকেয়া দিবসের আলোচনা সভা পণ্ড করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আয়োজকদের একজন জানান, রোকেয়া দিবসের অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম না থাকায় এ হামলা চালানো হয়।
ক্যাম্পাসের একাধিক সূত্র জানায়, রোকেয়া দিবস উপলক্ষে বেরোবিতে আলোচনা সভাসহ দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ। বেলা ১১টার দিকে ক্যাম্পাসের ক্যাফেটরিয়ার পাশে তৈরি করা মঞ্চে আলোচনা অনুষ্ঠান শুরু হয়। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান অতিথি উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লা, আলোচক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক তাজুল ইসলাম, বিজনেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফেরদৌস ইসলাম, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক পরিমল চন্দ্র বর্ম্মন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফরিদুল ইসলাম। হঠাৎ সেখানে হট্টগোল শুরু করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে ছাত্রলীগের সভাপতি তুষার কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক নোবেল শেখের নাম না থাকায় তারা সভাস্থল বর্জন করে চলে যান। এরপর দুপুর ১২টার দিকে তারা সভাস্থলে এসে হামলা চালান। এসময় তারা কিছু চেয়ারও ভাঙচুর করেন। এতে আলোচনা সভা পণ্ড হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের সভাপতি তুষার কিবরিয়া জানান, আলোচনা অনুষ্ঠানে জামায়াত শিবিরের অনুসারীরা থাকায় তারা অনুষ্ঠান বর্জন করেন। তবে সেখানে হামলা বা ভাঙচুরের কথা অস্বীকার করেন তিনি।
প্রক্টর ড. ফরিদ উল ইসলামের মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
রোকেয়া দিবস উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাফিউল আযম খান বলেন, ‘এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ছাত্রলীগের হামলা-ভাঙচুরে আলোচনা অনুষ্ঠানের ব্যাঘাত ঘটেনি।’
এসআই মহিবুল ইসলাম বলেন, ‘সমস্যা হয়েছিল, ঠিক। তবে এখন পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে।’








