আজ বগুড়ার সান্তাহার জংশন ও শেরপুর উপজেলা মুক্ত দিবস

বগুড়া প্রতিনিধি
১৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৯:২৪আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৯:২৪

সান্তাহারে শহীদ স্মৃতিসৌধ

আজ ১৪ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গ্রাস থেকে মুক্ত হয় বগুড়ার সান্তাহার জংশন শহর ও শেরপুর উপজেলা শহর। দিবসটি পালনে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে স্থানীয়রা।

শেরপুর উপজেলা: শেরপুরে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভিক কাজ শুরু হয়। পরে ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রলীগের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে মুক্তি বাহিনী। কমান্ডার নিযুক্ত হন ন্যাপ নেতা সিদ্দিক হোসেন বারি। স্থানীয় ডিজে হাই স্কুল মাঠে রাইফেল দিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু হয়। দারোগা ওয়াজেদ মিয়ার সহযোগিতায় হাবিলদার আবদুল হালিম অস্ত্র চালানোর কৌশল শেখান। ২৪ এপ্রিল শেরপুরে হানাদার বাহিনী প্রবেশ করে। মুক্তিযোদ্ধারা রাস্তায় গাছ ফেলে রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও সামান্য অস্ত্র দিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। কিন্তু হানাদারদের আধুনিক অস্ত্রের মুখে পিছু হটেন তারা। এরপর তারা ভারত ও দেশের অন্য স্থানে প্রশিক্ষণ নিয়ে শেরপুরে ফিরতে শুরু করেন। ১৩ ডিসেম্বর বিকালে পাকিস্তানি বাহিনী পরাজয় বুঝতে পেরে পালিয়ে যায়। রাজাকাররা আশ্রয় নেয় বিহারি অধ্যুষিত ঘোলাগাড়ি গ্রামে। ১৪ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা শেরপুর থানা দখল করেন। এরপর তারা ঘোলাগাড়ি গ্রামে আক্রমণ চালিয়ে রাজাকার মুক্ত করেন। পরদিন ১৫ ডিসেম্বর পার্কের মাঠে (বর্তমানে মহিলা ডিগ্রী কলেজ) স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করা হয়।

সান্তাহার জংশন: ১৪ ডিসেম্বর বিহারি অধ্যুষিত সান্তাহার রেল জংশন শহর হানাদার মুক্ত দিবস। এ দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধারা ত্রিমুখী আক্রমণ চালিয়ে সান্তাহারকে শত্রুমুক্ত করেন। মুক্তিযোদ্ধারা জানান, সান্তাহারে বিহারির সংখ্যা বেশি হওয়ায় হানাদাররা এখানে ঘাঁটি স্থাপন করে। এখান থেকে তারা উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতো। হানাদারদের পাশাপাশি সশস্ত্র বিহারিরাও অত্যাচার করেছে। ৯ মাস কোনও বাঙালি এখানে প্রবেশ করতে পারেনি। নির্যাতন ও নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ১০ ডিসেম্বর চার শতাধিক গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা সান্তাহারের দক্ষিণ, উত্তর ও পূর্ব দিকে অবস্থান নিয়ে হানাদারদের ওপর হামলা চালান, রেল লাইন উপড়ে ফেলে শত্রুদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর ১৪ ডিসেম্বর হানাদাররা নওগাঁ হয়ে পালিয়ে যায়। সান্তাহারে উড়ানো হয় বিজয়ের পতাকা।

 

 

/এএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম