রক্তনালীর টিউমারে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে পাঁচ মাস ১০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বাড়িতে ফিরেছে মুক্তামনি। শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল ৭টায় ঢামেক হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে রওনা দিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাতক্ষীরার সদর উপজেলার দক্ষিণ কামার বায়েশা গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছায় মুক্তামনি।
মুক্তামনির ফেরার খবর পেয়ে তার বাড়িতে আসেন আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশিরা। গণমাধ্যম কর্মীরাও ভিড় করেন। পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে মুক্তামনির বাড়িতে জড়ো হন আরও কয়েকশ’ মানুষ। এমন ভিড়ের মধ্যে গাড়ি থেকে মুক্তামনির সঙ্গে বের হয়ে আসেন তার বাবা ইব্রাহীম হোসেন, মা আসমা খাতুন এবং ছোট ভাই আল আমিন।
মুক্তামনির বাবা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘শুক্রবার সকাল ৭টায় সাতক্ষীরার উদ্দেশে রওনা হয়ে পৌঁছালাম সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। বাড়ি পৌঁছাতে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। তাই মুক্তামনিসহ সবাই ক্লান্ত।’
তিনি আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) ডাক্তাররা মুক্তামনিকে ছাড়পত্র দিয়েছেন। ওষুধ ও অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়ি ফেরার জন্য ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন। সামন্ত লাল সেন স্যার (ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়কারী) ফোন দিয়ে বার বার খোঁজখবর নিয়েছেন। একমাস পর আবারও চেকআপের জন্য ঢাকায় যেতে বলেছেন।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়িত্ব নিয়ে আমার মেয়ের চিকিৎসা করিয়েছেন, এজন্য তাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। প্রধানমন্ত্রী সবসময় আমার মেয়ের খোঁজখবর নিয়েছেন। তিনি সহযোগিতা করেছেন বলেই আমার মেয়ের চিকিৎসা করানো গেছে।’
দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফেরা নিয়ে প্রশ্ন করলে মুক্তামনি বলে, ‘প্রায় পাঁচ মাস পর বাড়িতে ফিরছি। আমার অনেক ভালো লাগছে। ঢাকায় থাকা অবস্থায় বাড়ির কথা বার বার মনে পড়তো। আমার বড় বোন হিরামনির বার্ষিক পরীক্ষার জন্য ২২দিন আগে বাড়িতে এসেছিলাম। তার জন্য আমার খুব কষ্ট হতো। হিরামনি আমার যমজ বোন তো। কিছু সময় না দেখলে আমার খুব কষ্ট লাগে। অনেক দিন পর বাড়ি আসলাম, সবার সঙ্গে দেখা হবে। আমার খুব ভালো লাগছে।’








