কিস্তি না দিতে পেরে গৃহবধূর আত্মহত্যা: মামলা হয়নি, তদন্তে তৎপর নয় পুলিশ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
২৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৫:১৯আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৬:১১

জরিনা খাতুন ঋণের টাকার কিস্তি দিতে না পেরে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যার ঘটনার নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধানে তৎপর নয় সিরাজগঞ্জের চৌহালী ও টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার পুলিশ। সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকাল পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনও মামলা হয়নি। আর এ ঘটনা নিয়ে দুই থানার পুলিশের অনুসন্ধানও চলছে দায়সারা গতিতে। চৌহালী থানা বলছে, ঘটনাটি নাগরপুর থানায় হওয়ায় তারা আগ্রহ দেখাচ্ছে না। অন্যদিকে, নাগরপুর থানা বলছে, এ বিষয়ে অভিযোগ না আসায় তারা অতি উৎসাহী হয়ে কিছু করতে পারে না।
এদিকে, ঘটনার পরপরই এটি নিয়ে এলাকায় অনেক আলোচনা হলেও হতদরিদ্র ওই পরিবারের পক্ষে কেউই তেমন এগিয়ে আসেননি।
জানা গেছে, হতদরিদ্র দিনমজুর আব্দুর রউফের স্ত্রী ঋণ গ্রহিতা জরিনা খাতুনের বর্তমান আবাসস্থল টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর ইউনিয়নের ভুমুরিয়া। তবে কয়েক বছর আগে তাদের মূল আবাসস্থল ছিল পাশ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলার খাসকাউলিয়া গ্রামে। যমুনার অব্যাহত ভাঙনের কারণে নদীগর্ভে ভিটেমাটি বিলীন হওয়ায় তারা ভুমুরিয়াতে অন্যের জমি লিজ নিয়ে আবাস গড়েন।
রউফ-জরিনা দম্পতির ছেলে-মেয়ে পাঁচটি। এর মধ্যে বিয়ের পর দুই ছেলে আলাদা থাকেন। বর্তমানে তারা ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে দিনমজুরের কাজ করেন। বাকি তিন ছেলে-মেয়ে থাকেন বাবা-মায়ের সঙ্গে। হতদরিদ্র জরিনা খাতুন বেসরকারি সংস্থা গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। পাশাপাশি স্থানীয়দের কাছেও তার ঋণ ছিল। চৌহালী খাস কাউলিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইদ্রিস আলী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, নিদারুণ দারিদ্র্যের বোঝা ছিল তাদের নিত্যসঙ্গী। ঋণের জালে আটকা পড়েছিলেন জরিনা। তা শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু ডেকে নিয়ে আসে।
চৌহালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকরাম হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জরিনার বাড়ি চৌহালীতে হলেও নদী ভাঙনের কারণে এখন সে স্বামী ও ছেলেমেয়ে নিয়ে নাগরপুর উপজেলার ভুমুরিয়াতে থাকে। গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে তার আত্মহত্যার খবর জানতে পারি। ঘটনাটি নাগরপুর হওয়ায় আমরা তেমন আগ্রহ দেখাইনি।’
নাগরপুর থানার ওসি মাইন উদ্দিন বলেন, ‘বেসরকারি সংস্থা গ্রামীণ ব্যাংকের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনের কাছেও তাদের ঋণের বোঝা ছিল। এসব নিয়ে জরিনা মানসিকভাবে দুর্বল ছিলেন। আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি। ভিকটিমের আত্মীয়-স্বজনরাও দরিদ্র। কেউই এ বিষয়ে কোনও অভিযোগ দেননি। তাই আমরা অতি উৎসাহী বা উপযাচক হয়ে বেশি আগ্রহ দেখাতে পারি না। তারপরাও ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আব্দুল হক বিষয়টির খোঁজ-খবর নিচ্ছেন।’
উল্লেখ্য, ঋণের টাকার কিস্তি দিতে না পেরে শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার ভুমুরিয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন জরিনা খাতুন। এর পরই তাকে নাগরপুরের ভুমুরিয়া গ্রাম থেকে চৌহালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
জরিনার স্বামী আব্দুর রউফ জানান, নাগরপুর উপজেলার শাহজানী ভাড়রা ইউনিয়ন গ্রামীণ ব্যাংকের শাখা অফিস থেকে ৩০ হাজার টাকার ঋণ নিয়েছিলেন জরিনা। আরও একটি এনজিও থেকেও ঋণ নেওয়া ছিল তার। দুই ঋণের কিস্তি জোগাতে হিমশিম খেতে হতো তাকে। অভাবের কথা শুনে এনজিওকর্মীরা কিস্তির জন্য আরও বেশি চাপ দিত বলে তার স্ত্রী দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিল বলে জানান রউফ।
তবে টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার গ্রামীণ ব্যাংক ভাড়রা শাখার সেকেন্ড অফিসার মো. মোশারফ হোসেন দাবি করেন, জরিনা খাতুন ব্র্যাক ব্যাংকের দুই শাখা থেকে ৭০ হাজার, মানবমুক্তি থেকে ২৫ হাজার ও গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। স্থানীয় আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকেও জরিনা ঋণ নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
তবে কিস্তি পরিশোধের সঙ্গে জরিনার আত্মহত্যার যোগসূত্র নেই দাবি করে গ্রামীণ ব্যাংকের একই শাখার ব্যবস্থাপক রঞ্জু আহমেদ বলেন, ‘কিস্তি পরিশোধ নিয়ে তার (জরিনা) কোনও সমস্যা ছিল না। তিনি সবসময় আগে থেকেই কিস্তি পরিশোধ করতেন। আমাদের মনে হয়, ঋণের কিস্তির জন্য নয়, পারিবারিক সমস্যার কারণে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।’
আরও পড়ুন-
তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় শাহজালালে ব্লগার গ্রেফতার

বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত, নাটোরে ১২ কর্মকর্তাকে নোটিশ

/টিআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম