নাটোরের বাগাতিপাড়ায় এক যুবককে বিবস্ত্র করে পেটানোর ঘটনায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলিফ মাহমুদকে পদচ্যুত করা হয়েছে। এছাড়া পুরনো কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। অপরদিকে আলিফকে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটিকে সুপারিশ করেছে জেলা ছাত্রলীগ।
মঙ্গলবার দুপুরে আলিফ মাহমুদের স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র পাওয়ার পর বিকেলে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে তা জেলা ছাত্রলীগ কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন আহ্বায়ক তৌফিকুর রহমান শ্রাবন। সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে শ্রাবন বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
শ্রাবন জানান, সোমবার সন্ধ্যায় একটি তুচ্ছ ঘটনায় লালপুর উপজেলার এক যুবককে নিজ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে বিবস্ত্র করে পেটানোর অভিযোগ পাওয়া যায় আলিফের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় স্থানীয় এমপি আবুল কালাম আজাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় ঘটনার শিকার যুবক অভিযোগ করেন, মাদক সরবরাহ না করায় তাকে বিবস্ত্র করে পেটানো হয়েছে। তবে আলিফ দাবি করেন, সিগারেট কিনতে দেওয়া ৫০০ টাকা আত্মসাৎ করায় তাকে বিবস্ত্র করে পেটানো হয়েছে। এ ঘটনায় আলিফ পদত্যাগ করার ঘোষণা দেয়।
এক প্রশ্নের জবাবে শ্রাবন দাবি করেন, স্থানীয় লোকজনের বক্তব্য হচ্ছে আলিফ মাহমুদকে বিভিন্ন সময় টাকার বিনিময়ে মাদক এনে দিতো ঘটনার শিকার ওই যুবক। সম্প্রতি তাদের দুইজনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটলে ওই যুবক মাদক সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এর জের ধরে সোমবার সন্ধ্যায় তাকে নিজের অফিসে ডেকে আনে আলিফ। এ সময় পুনরায় সে মাদক সরবরাহের প্রস্তাব দিলে ওই যুবক তাতে অস্বীকৃতি জানায়। এ সময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে বিবস্ত্র করে পেটাতে থাকে ছাত্রলীগ নেতা আলিফ।
ঘটনার শিকার ওই ব্যক্তি নিজেকে রক্ষা করতে বিবস্ত্র অবস্থায় চিৎকার করে বাইরে বেরিয়ে এসে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এই দৃশ্য দেখে আশেপাশের লোকজন একটি গেঞ্জির হাতা কেটে পরিয়ে তার লজ্জা নিবারণ করে।
শ্রাবন জানান, মঙ্গলবার সকালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পদক সেকেন্দার রহমানের কার্যালয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ব নির্ধারিত একটি বর্ধিত সভা ছিল। সভায় উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করে তার নেতৃত্বে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পক্ষে মতামত দেওয়া হয়।
দুপুরে আলিফের স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র পাওয়ার পর শ্রাবনকে আহ্বায়ক এবং পাঁচটি ইউনিয়ন ও পৌর কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদককে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত কমিটি পাসের জন্য কমিটির নামগুলো জেলা ছাত্রলীগের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম মাসুম জানান, আলিফের পদত্যাগপত্র এবং আহ্বায়ক কমিটির কপি তিনি পেয়েছেন। তবে এর আগে দুপুরেই জেলা কমিটির পক্ষ থেকে আলিফকে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। আহ্বায়ক কমিটির ব্যাপারে দুই বা তিনদিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।








