টাঙ্গাইলে জেলা বিএনপির অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে দলটির পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। টাঙ্গাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সায়েদুর রহমান এ খবর নিশ্চিত করেছেন।
চলতি বছরের ২৬ মে কেন্দ্র থেকে জেলা বিএনপির ৩০ সদস্যের একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে শামসুল আলম ওরফে তোফাকে সভাপতি এবং ফরহাদ ইকবালকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। সভাপতি শামসুল আলম আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় কারাবন্দি সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলাতান সালাউদ্দিন টুকুর ভাই।
পুলিশ জানায়, গত কয়েকদিন ধরে নবগঠিত এ কমিটি নিয়ে পদাধিকারী ও পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর মাঝে নবগঠিত কমিটি কর্মী সম্মেলনের উদ্যোগ নেয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসন কোনও পক্ষকেই শহরে কর্মী সম্মেলন করার অনুমতি দেয়নি। এরপরও জেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সাবেক ডাকসু ভিপি আমান উল্লাহ আমানকে প্রধান অতিথি করে গোপনে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার বালুচরা নামক স্থানে কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এক পর্যায়ে উত্তেজিত নেতাকর্মীরা জেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা করে ভাঙচুর চালান। পরে টাঙ্গাইল মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ বেশিরভাগ পদেই সালাম পিন্টু পরিবারের অনুসারীদের বসানো হয়েছে। এজন্য তারা এ কমিটি বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করছেন।
জেলা বিএনপির এক সূত্র জানায়, চলতি বছরের ২৩ জুলাই নবগঠিত জেলা বিএনপির কমিটি টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব কমিউনিটি সেন্টারে কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল। তারা সভাস্থলে পৌঁছার আগেই পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা কর্মী সম্মেলনে হামলা করে। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এসময় বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হন। পণ্ড হয়ে যায় কর্মী সম্মেলন। এ ঘটনার পর জেলা বিএনপি থেকে সহ-সভাপতি আলী ইমাম তপন, হাসানুজ্জামিল শাহীন, যুগ্ম সম্পাদক খন্দকার আহমেদুল হক শাতিল ও সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কাজী শফিকুর রহমান লিটনকে বহিষ্কার করা হয়।
সূত্র আরও জানায়, এরপর থেকে জেলা বিএনপি ও বিদ্রোহী পক্ষ পৃথকভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করে আসছে। বিদ্রোহী পক্ষের হামলার আশঙ্কায় জেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটি স্থান গোপন রেখে কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করে। এ কারণে বিদ্রোহী পক্ষ কর্মী সম্মেলন পণ্ড করতে জেলা বিএনপির কার্যালয় ও চেয়ার ভাঙচুর করে।
তবে জেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ শামসুল আলম তোফা বলেন, ‘প্রশাসনের ছত্রছায়ায় বিএনপি নামধারী আওয়ামী লীগের এজেন্টরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করা না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’ ওসি সায়েদুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত কোনও মামলা হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে পৌর এলাকার কাগমারীর বালুচরায় জেলা বিএনপির উদ্যোগে কর্মী সম্মেলন হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন– বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান। জেলা বিএনপির সভাপতি শামছুল আলম তোফার সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন– কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবালসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল এবং শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।








