আকাশে হালকা মেঘ আর বাতাসে কিছুটা শীতের আমেজ, সেই সঙ্গে নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রশাসনের কড়াকড়ি; তারপরও কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। বছরের শেষ সূর্যাস্ত উপভোগ করতে শিশির ভেজা বালিয়াড়িতে পর্যটকের ঢল নেমেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চার শতাধিক হোটেল-মোটেলের সাড়ে সাত হাজার কক্ষ বুকিং হয়ে আছে। পর্যটকদের জন্য কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। তারকা মানের হোটেলগুলোতে থাকছে বিভিন্ন আকর্ষণীয় অফার ও ইভেন্ট।
কক্সবাজারে বেড়াতে আসা নবদম্পতি পুরান ঢাকার বাসিন্দা পারভেজ চৌধুরী ও সায়মা চৌধুরী জানান, এই প্রথম তারা কক্সবাজারে এসেছেন। হানিমুনে এসে কক্সবাজারের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। ইতিমধ্যে হিমছড়ি, পাঠুয়ারটেক, ইনানী ও রামুর বৌদ্ধবিহারগুলো দেখে মুগ্ধ হয়েছেন বলেও জানান তারা।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবনী পয়েন্টে কথা হয় চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী দম্পতি সোহেল আরমান ও শাহেনা আক্তারের সাথে। তারা জানিয়েছেন, নতুন বছরের দিনগুলো উপভোগ করার জন্য কক্সবাজারে এসেছেন। নতুন বছরে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট যাতে স্থিতিশীল থাকে এটাই তাদের প্রত্যাশা।
কক্সবাজারের হোটের দি কক্স টুডে-এর রুম ম্যানেজার আবু তালেব জানান, ইতোমধ্যে হোটেলের সব রুম বুকিং হয়ে গেছে। থার্টিফার্স্ট নাইট উপলক্ষ্যে একদম ঘরোয়া পরিবেশে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তায় হোটেলে অবস্থানরত পর্যটকদের জন্য কালচারাল শোসহ নানা আয়োজন কো হয়েছে। এতে হোটেলে অবস্থান করা পর্যটকরা বাড়তি আনন্দ পাবে।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল হাসেম সিকদার জানান, অন্যান্য বারের চেয়ে এবার বর্ষবরণ হবে অন্যরকম। রোহিঙাদের নিয়ে একটা শঙ্কা থাকলেও এবারের ৫ লাখেরও অধিক পর্যটক আগমন আশা করা হচ্ছে।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফজলে রাব্বি জানান, আসলে ১৫ ডিসেম্বর থেকে প্রতিদিন লক্ষাধিক পর্যটক কক্সবাজারে আসছে। বিশেষ করে থার্টিফার্স্ট নাইট উপলক্ষ্যে আরও বেশি পর্যটক আসা শুরু করেছে। সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন ট্যুরিস্ট পুলিশ। সাদা পোশাকের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা কাজ করছেন।
সব অশুভ শক্তি যেন শান্তির শুভ শক্তির কাছে পরাজিত হয়। সবার জন্য শান্তির বার্তা নিয়ে নতুন বছর আসবে এমন প্রত্যাশায় জেগে আছে কক্সবাজার।








