নড়াইলের কালিয়া উপজেলার ঘেরগুলোতে অন্য বছরের তুলনায় এ বছর অনেক বেশি পরিমাণে গলদা চিংড়ির রেণু মারা গেছে। এছাড়া এ বছর প্রত্যাশা মতো গলদা চিংড়ি বড়ও হয়নি। এদিকে আবার বাজারে গলদা চিংড়ির দামও কম। এ অবস্থায় গলদা চাষিরা ব্যাপক লোকসানের আশঙ্কা করছেন।
একাধিক চিংড়ি চাষি জানান, কালিয়ায় কোনও মাছের হ্যাচারি না থাকায় চিংড়ির রেণু কিনতে তাদের যেতে হয় বরিশাল ও ভোলায়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে রেণু আনার পর প্রতি বছর ১০-২০ শতাংশ মারা যায়। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর এরচেয়েও বেশি পরিমাণে রেণু মারা গেছে। চাষিদের দাবি, কেনা রেণুর ৭৫ শতাংশ রেণু মারা গেছে। এদিকে বাজারে চিংড়ির দাম কম। প্রতি কেজি মাঝারি গ্রেডের চিংড়ি ৫-৬ শ’ টাকা এবং ছোট গ্রেডের চিংড়ি ৪-৫ শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চাষিরা অভিযোগ করেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তাদের কোনও খোঁজ-খবর নেন না। অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায় না। কখনও কখনও পাওয়া গেলেও চাষিদের তিনি ভালো কোনও পরামর্শ দেন না।
উপজেলার চাঁচুড়ি গ্রামের তমজিদ বিশ্বাস বলেন, ‘আমার দু’টি ঘেরে দেড় লাখ রেণু ছেড়েছিলাম। এ পর্যন্ত ৪০-৪৫ হাজার টাকার চিংড়ি বিক্রি করেছি। এ বছর চিংড়ির রেণুর বৃদ্ধিও কম। তাই ২০-৩০টি চিংড়িতে এক কেজি হচ্ছে। আগে ৮-১৫টি চিংড়িতে এক কেজি হতো। আমার প্রায় পাঁচ লাখ টাকা লোকসান হবে।’ উপজেলার গলদা চাষিরা এ বছর কমপক্ষে ১০ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হবেন বলে তিনি দাবি করেন।
কৃষ্ণপুর গ্রামের রেণু ব্যবসায়ী মদন বিশ্বাস বলেন, ‘রেণুতে কোনও সমস্যা ছিল না। আসলে এ বছর অতিবৃষ্টির কারণে মাছের বৃদ্ধি ভালো হয়নি।’
কালিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজিব রায় বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। চাষিদের আমরা সব রকম পরামর্শ দিয়ে থাকি। বৃষ্টির কারণে মাছের বৃদ্ধি না হওয়ার কোনও কারণ নেই। তবে অনেক ঘেরের রেণু মারা গেছে। এছাড়া বর্তমানে বিশ্ববাজারে চিংড়ির চাহিদাও কম। তাই লোকসানের আশঙ্কা করছেন চাষিরা।’








