প্রসিদ্ধ যশোর রোড চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হচ্ছে শিগগির। এজন্য সড়কটির দুই পাশে থাকা নতুন-পুরনো সব গাছ কেটে ফেলা হবে। শনিবার (৬ জানুয়ারি) সকালে যশোরে এক মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। দ্রুতই এই কাজে হাত দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। রাস্তা নির্মাণের পর নতুন করে গাছ লাগানোরও সিদ্ধান্ত হয়।
যশোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক যথাযথ মানের ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় রাস্তার দুই পার্শ্বে গাছসমূহ অপসারণের বিষয়ে’ এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জানানো হয়, গুরুত্বপূর্ণ যশোর-বেনাপোল মহাসড়কটি (যশোর রোড) চার লেনে উন্নীতকরণের জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। শিগগির এই কাজ শুরু হবে। কিন্তু বর্তমানে মহাসড়কটির দুই পাশে নতুন-পুরনো অনেক গাছ রয়েছে। সেগুলো রেখে মহাসড়ক চার লেন করা সম্ভব না। এ কারণে জনস্বার্থে গাছ কাটতে হবে।
সভা সূত্র জানায়, গাছ কাটার ব্যাপারে উপস্থিত জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ দ্বিমত করেননি। রাস্তা নির্মাণের পর দুই ধারে নতুন করে গাছ লাগানোরও সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে রাস্তার ক্ষতি করবে না, এমন গাছ লাগানো হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আশরাফ উদ্দিন। এতে উপস্থিত ছিলেন যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, শেখ আফিল উদ্দিন এমপি, অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম এমপি, যশোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বেলায়েত হোসেন ও আব্দুল মালেক, স্থানীয় সরকার বিভাগ, খুলনার পরিচালক হোসেন আলী খন্দকার, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, যশোর প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হোসাইন শওকত, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুজ্জামানসহ সরকারি কর্মকর্তা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা।
সভা শেষে জানতে চাইলে যশোর প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন বলেন, ‘মহাসড়কটিতে দুই হাজার ৩০০-র বেশি গাছ আছে বলে জানানো হয়। তবে এ নিয়ে বিতর্ক আছে।’
তিনি জানান, গাছ কাটার ব্যাপারে যশোর, ঝিকরগাছা ও শার্শা উপজেলা পরিষদ এবং যশোর জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় আগেই সিদ্ধান্ত হয়। বিদ্যমান গাছ নিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং জেলা পরিষদের মধ্যে যে বিরোধ আছে, তা আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় নিষ্পত্তি করা হবে।
প্রসিদ্ধ যশোর রোডে (যশোর থেকে কলকাতা) নড়াইলের জমিদার কালিবাবুর তত্ত্বাবধানে লাগানো প্রাচীন গাছগুলোর মধ্যে অল্পকিছু এখনও টিকে আছে। এগুলোর আয়ু শেষের পথে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে অসাধু ব্যক্তিরা বহু গাছ কেটে নিয়ে গেছে। আর বিভিন্ন সময়ে মহাসড়কটিতে নতুন করে কিছু গাছ লাগানো হয়। সড়ক উন্নয়নের জন্য সীমান্তের ওপারে পশ্চিমবঙ্গের যশোর রোডেও প্রাচীন গাছগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে বলে জানা গেছে।








