বগুড়া শহরে রেলের এসডিও বাংলো চত্বরের কূপ থেকে মানুষের হাড় ও চুল পাওয়া গেছে। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে শনিবার (৬ জানুয়ারি) বিকালে জানিয়েছেন, এগুলো শিশুসহ একাধিক মানুষের চুল এবং পাঁজর, হাত ও পায়ের হাড়। তবে এসব কতো পুরাতন এবং নারী নাকি পুরুষের তা নিশ্চিত হতে বিশেষজ্ঞ বোর্ডের মতামত ও ডিএনএ পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বগুড়া শহরে রেল স্টেশনের উত্তর পাশে এসডিও বাংলো। এটি রেলের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসভবন। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী স্থানীয় রাজাকাদের সহযোগিতায় এ বাংলোটিকে টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করে। জনগণকে ধরে এনে নির্যাতনের পর হত্যা করে লাশ কূপে ফেলে দেওয়া হতো। ‘মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র’ বইয়ের অষ্টম খণ্ডে রেলের এসডিও বাংলোর কসাইখানা ও মৃত্যুকূপের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
বধ্যভূমির সন্ধানে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর কূপটি খনন শুরু হয়। দুই দফায় পাঁচ দিন খনন কাজ চালানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের তত্ত্বাবধানে গত শুক্রবার থেকে তৃতীয় দফায় খনন শুরু হয়। কুপের প্রায় ৩৫ ফুট নিচে পাওয়া যায় মানুষের বেশ কিছু হাড় ও কাপড়ের অংশ। শনিবার (৬ জানুয়ারি) পাওয়া যায় আরও কিছু হাড় ও চুল। ৪০ ফুট খননের পর পানি উঠতে শুরু করায় কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক নুরে আলম সিদ্দিকী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি হাড় ও চুলগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগকে অনুরোধ জানান।
শনিবার বিকালে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডা. মিজানুর রহমান ও সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. সামির হোসেন মিশু জানান, রেলের এসডিও বাংলোর কূপ থেকে পাওয়া হাড় ও চুলগুলো প্রাথমিকভাবে মানুষের বলে মনে হচ্ছে। হাড়গুলো পাঁজর, হাত ও পায়ের। তবে বিশেষজ্ঞ বোর্ড ও ডিএন টেস্টের আগে এগুলো কত পুরাতন বা নারী নাকি পুরুষের তা নিশ্চিত হওয়া যাবে না।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক নুরে আলম সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেছেন, শুধু শ্রমিক দিয়ে এই কুপ আর খনন করা সম্ভব নয়। এখন বড় পরিসরে আধুনিক পদ্ধতি ও যন্ত্রপাতির সহায়তায় খুঁড়তে হবে। এজন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চাওয়া হবে। এছাড়া পাওয়া হাড় ও চুল ডিএনও পরীক্ষার জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।








