ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে আছে রংপুরের আকাশ। দুই দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। ভর দুপুরেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন। তিন দিনের শৈত্যপ্রবাহে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষ, বয়স্ক ও শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে শীতজনিত রোগ। চরমে উঠেছে ছিন্নমূল ও দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ। শীতবস্ত্রের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন হতদরিদ্ররা।
রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, গত তিন দিন ধরে রংপুরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। আজ রবিবার (৭ জানুয়ারি) রংপুরে তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। এদিকে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে জানিয়েছেন জেলা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আলী।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এসময়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, এগুলো সবই স্বাভাবিক মৃত্যু।
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘শীতজনিত কারণে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। তারা কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। এছাড়া শ্বাসকষ্টসহ নিউমোনিয়াতেও আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা।’ শীতজনিত রোগ থেকে রক্ষা পেতে আপাত প্রয়োজন ছাড়া শিশুদের ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে হাসপাতাল থেকে।
সরেজমিনে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৯ ও ১০ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে দেখা যায়, শত শত শিশু বিভিন্ন শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একইভাবে হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসছেন শিশু ও বয়স্করা।
বহির্বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক নাজনীন আখতার বলেন, ‘শীতজনিত রোগে আক্রান্তরাই বেশি আসছেন চিকিৎসা নিতে। তাদের ব্যবস্থাপত্র আর ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।’








