চারদিকে গোল হয়ে বসেছেন কয়েকজন। এর মাঝে দেখা যাচ্ছে আগুনের শিখা। রাজশাহী নগরীর দড়িখোড়বোনা রেললাইনের পাশে রবিবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা গেলো তাদের। গত কয়েকদিনে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় এই জেলার বিভিন্ন এলাকায় চোখে পড়ে এমন চিত্র।
দড়িখোড়বোনা এলাকার ভাই ভাই স্টোরের কর্মচারী সাইদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দোকানের ভেতরেও যেন ঠাণ্ডায় থাকা দায়! বাইরে তো হাড়কাঁপুনি শীত। তাই কয়েকজনকে নিয়ে আগুন জ্বালিয়ে শীত তাড়ানোর চেষ্টা করছি।’
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাজশাহীতে বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৫.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটাই এ বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। শনিবার তা ছিল ৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তাপমাত্রা নিচে নেমে যাওয়ার পাশাপাশি উত্তরের হিমেল হাওয়ার কারণে শীত বেড়েছে। পাশাপাশি সারাদেশে বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ। এ সপ্তাহ পুরোটাই এমন কনকনে ঠাণ্ডা থাকতে পারে।’
শৈত্যপ্রবাহের কারণে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহীতে বিরাজ করছে তীব্র শীত। এ কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বলা যায়, জবুথবু হয়ে গেছেন জেলার সাধারণ মানুষ। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না কেউ।
পবা উপজেলার দর্শনপাড়া এলাকার জমসেদ আলী শহরে কাজের খোঁজে প্রতিদিন আসেন। কাজ শেষ করে বিকালে আবার বাড়ি ফিরে যান। রবিবার সন্ধ্যায় নগরীর রেলগেট এলাকায় বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি।
এ সময় জমসেদ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলছিলেন, ‘ঠাণ্ডায় ভোরে ঘুম থেকে উঠে শহরে আসতে খুব কষ্ট হয়। কিন্তু কিছু করার থাকে না। কুয়াশা ভেদ করে চাদর জড়িয়ে সংসারের খরচ মেটানোর জন্য ছুটে আসি। এত ঠাণ্ডার মধ্যেও আমরা দরিদ্ররা এখনও কোনও গরম পোশাক পাইনি।’
তবে রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বরাদ্দ পাওয়ার পরই পুরো জেলায় শীতার্তদের ৫২ হাজার ৫০০টি কম্বল বিতরণ করেছেন তারা।
রাজশাহী অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০০৫ সালে সর্বনিম্ন তপামাত্রা ছিল ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
২০০৬ সালে ৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০০৭ সালে ৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০০৮ সালে ৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০০৯ সালে ৬.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০১০ সালে ৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০১১ সালে ৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০১২ সালে ৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০১৩ সালে ৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও ২০১৪ সালে ছিল ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
২০১৫ সালে রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০১৬ সালে ৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও গত বছর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।








