রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। সোমবার (৮ জানুয়ারি) ক্যাম্পাসের শেখ রাসেল চত্বরে আয়োজিত শিক্ষার্থীদের এ মানববন্ধন ভণ্ডুল করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে মানবন্ধন করতে গেলে কয়েকজন শিক্ষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রক্টর তা ভণ্ডুল করার চেষ্টা করেন।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ভর্তির পরীক্ষায় নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা না দিয়েই প্রথমস্থান অধিকার করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল চত্বরে মানববন্ধন শুরু করার ১০ মিনিটের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফরিদ উল ইসলাম,সহকারী অধ্যাপক তাবিউর রহমান ও জনসংযোগ দফতরের সহকারী প্রশাসক সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের মানব বন্ধন করতে বাধা প্রদান করেন। শিক্ষার্থীদের ব্যানার গুটিয়ে নিয়ে চলে যেতে বলা হয়। এ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের বেশ কিছুক্ষণ কথা কাটাকাটি হয়। শেষ পর্যন্ত সংক্ষিপ্তভাবে কর্মসূচি শেষ করেন শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘যারা প্রশ্নপত্র ফাঁস আর জালিয়াতির বিরুদ্ধে কথা বলছেন তাদের বিভিন্ন ভাবে বিদ্রুপ করা হচ্ছে, তাদের কণ্ঠ রোধ করা হচ্ছে। জালিয়াতি চক্রের হাত বড় নাকি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হাত বড়, নাকি দুষ্কৃতিকারীদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় বন্দি হয়ে আছে তা আমরা দেখতে চাই। এভাবে মানববন্ধনে বাধা দেওয়ার মাধ্যমেও কণ্ঠ রোধ করা হচ্ছে।’
এ ব্যাপারে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাবিউর রহমান বলেন, ‘মানববন্ধন করার খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে দেখি সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ৪০-৫০ জন মিলে মানববন্ধন করছে। ক্যাম্পাসে যেকোনও কর্মসূচি পালন করতে হলে প্রক্টরের অনুমতি নিতে হয়। যেহেতু অনুমতি নেওয়া হয়নি, তাই তাদের প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে কর্মসূচি পালন করার কথা বলা হয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফরিদ উল ইসলামের জানান, ‘অনুমতি না নেওয়ার কারণে তাদের মানববন্ধন করতে নিষেধ করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত ১৭ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার সাক্ষাৎকারে ছয় জন এবং ১৮ ডিসেম্বর ভর্তি হতে এসে আরও ২ জন ভুয়া পরীক্ষার্থী ধরা পড়েছে। এর মধ্যে প্রথম দিনের সাক্ষাৎকারে ধরা পড়ে শামস বিন শাহরিয়ার নামের এক ভুয়া পরীক্ষাথী। সে স্বীকারোক্তিতে অনেক তথ্য দিয়েছে। সেখানে একজন শিক্ষকের নামও এসেছে। সেসব তথ্যের মাধ্যমে জালিয়াত চক্রকে শনাক্ত করা সম্ভব। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় একটি মামলা করলেও তার কোনও অগ্রগতি নেই। একটি তথ্য অনুসন্ধান কমিটি করলেও এখন পর্যন্ত তারও কোনও কাজ দেখা যাচ্ছে না বলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে আসছে।








