সাংবাদিকদের ওপর হামলার মামলায় সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১ ফ্রেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেট চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক সাইফুজ্জামান হিরো এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী আইয়ুব আলী এ খবর নিশ্চিত করেন।
লিয়াকত আলী উপজেলার মল্লিফৌদ গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে।
আইয়ুব আলী জানান, আদালত এলাকায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার মামলায় লিয়াকত আলীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। পাশাপাশি এ মামলায় শামীম আহমদ নামের অন্য এক আসামিকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তারা দু’জনই জৈন্তাপুরের একটি হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌছুল হোসেন জানান, গত বুধবার সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা দ্রুত বিচার আইনের মামলায় লিয়াকত আলীকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা।
আদালত সূত্র জানায়, গত বছরের ৩ ডিসেম্বর জৈন্তাপুরের শ্রীপুরের পাথর কোয়ারির দখল নিয়ে লিয়াকত আলী এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি কামাল আহমদের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে কামালের পক্ষের হোসেন আহমদ নামের এক যুবক নিহত হন। এ ঘটনায় ৬ ডিসেম্বর নিহতের ভাই আমিন আহমদ লিয়াকত আলীসহ ৭৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে সিলেটের জৈন্তাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর ৩৪ জন আসামি উচ্চ আদালত থেকে অন্তবর্তীকালীন জামিন নেন।
সূত্র আরও জানায়, ওই মামলায় লিয়াকত আলীসহ ৩১ জন বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল হায়দারের আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। শুনানি শেষে আদালত ৩১ জনের মধ্যে ফয়েজ আহমদ বাবর নামের এক আসামির জামিন মঞ্জুর করলেও ৩০ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ওই দিন আদালত এলাকায় লিয়াকত ও তার সহযোগীদের হামলায় যুগান্তরের ফটো সাংবাদিক মামুন হাসান ও যমুনা টেলিভিশনের সিলেট অফিসের ক্যামেরা পারসন নিরানন্দ পাল গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় নিরানন্দ পাল বাদী হয়ে শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) বিকালে দ্রুত বিচার আইনে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হচ্ছেন– লিয়াকত আলী, জৈন্তাপুরের নয়াখেল গ্রামের ফয়েজ আহমদ বাবর ও নজরুল, আদর্শ গ্রামের শামীম আহমদ, হরিপুরের জুয়েল আরমান ও খারু বিলের হোসেইন আহমদ এবং অজ্ঞাত আরও ১৫-১৬ জন।








