ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে দুই স্কুলের ৫৩ জন শিক্ষার্থী তাদের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার প্রবেশপত্র পায়নি। এতে আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া পরীক্ষায় তারা অংশ নিতেও পারেনি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন এ খবর নিশ্চিত করেন।
পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা ৫৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ জন গফরগাঁওয়ের রৌহা উচ্চ বিদ্যালয়ের এবং ১৮ জন উথুরী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ ঘটনার পর থেকে রৌহা উচ্চ বিদ্যালয় ও উথুরী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গা-ঢাকা দিয়েছেন। এদিকে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র না পাওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে এবং এর জন্য দায়ীদের শাস্তির দাবিতে গফরগাঁও থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রৌহা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মারুফ আহমেদ তার স্কুলের ৩৫ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ফরম পূরণের কথা বলে প্রায় দেড় লাখ টাকা নিয়েছেন। তবু ওই ৩৫ শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র আসেনি। এদিকে, উথুরী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদানের অনুমতি নেই। এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ইয়াসমিন সুলতানা পপিকে পরীক্ষার্থী প্রতি আট হাজার টাকার বিনিময়ে রৌহা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে রেজিস্টেশন ও ফরম পূরণ করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন প্রধান শিক্ষক মারুফ আহমেদ। পরে উথুরী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৮ জন শিক্ষার্থী প্রায় দেড় লাখ টাকা দেন। কিন্তু তারা প্রবেশপত্র পাননি।
উথুরী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শামছুন্নাহার জানান, তার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াসমিন সুলতানা পপির মাধ্যমে আট হাজার টাকা দিয়ে রৌহা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করেন। কিন্তু আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পরীক্ষার প্রবেশপত্র পাননি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘গত বছরও প্রধান শিক্ষক মারুফ আহমেদ এ ধরণের অপকর্ম করেছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেবো।’
ঘটনার পর শিক্ষক মারুফ আহমেদ ও ইয়াসমিন সুলতানা পপি গা-ঢাকা দিয়েছেন। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্র্মকর্তা ড. শামীম রহমান বলেন, ‘উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।’








