লক্ষ্মীপুরে সেচ প্রকল্প বন্ধ থাকায় ধান চাষ ব্যাহত, বিপাকে কৃষক

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১১:২৮আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১২:৪৭

সেচ প্রকল্প চালুর দাবি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মধ্য চর রমনী মোহন এলাকায় সেচ প্রকল্প বন্ধ থাকায় ইরি ও  বোরো ধান চাষ করতে পারছেন না স্থানীয় চাষিরা। একারণে বিপাকে পড়েছেন তারা। দ্রুত এ প্রকল্প চালু না হলে স্থানীয়ভাবে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সেচ প্রকল্প চালুর দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এক ব্যক্তির মামলার কারণে সেচ প্রকল্প আটকে আছে। চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে ক্রমেই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন কৃষকরা। এদিকে কৃষকরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন সে জন্য দ্রুত প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) কর্মকর্তারা।

লক্ষ্মীপুর বিএডিসি ক্ষুদ্র সেচ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী কাজী মো. আবুল কালাম বলেন, ‘কৃষকরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন সেজন্য প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

জানা যায়, ১৫ বছর ধরে সদর উপজেলার মধ্য চর রমনী এলাকায় স্থানীয়দের উদ্যোগে আলিফ সেচ প্রকল্পের অধীনে প্রায় ২০০ একর জমিতে ইরি ও বোরো চাষ করে আসছেন কৃষকরা। সম্প্রতি প্রকল্পটিতে বিএডিসি’র মাধ্যমে সরকারিভাবে ভূগর্ভস্থ ভারী পাইপ লাইন নির্মাণের জন্য কার্যাদেশ জারি করা হয়। এর জের ধরে খোরশেদ আলম নামের এক ব্যক্তি তার জমির ওপর দিয়ে সেচ প্রকল্প চালু না করার আদেশ দিতে আদালতের শরণাপন্ন হন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত স্থিতি অবস্থা বজায় রাখার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে প্রকল্পটির কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে ইরি ও বোরো চাষিরা বিপাকে পড়েছেন। চারা রোপণের শেষ সময়ে এসেও চাষ শুরু করতে না পারায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন তারা।

সেচ প্রকল্প চালুর দাবিতে মানববন্ধন এ ব্যাপারে মানববন্ধন কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া কৃষক নিজাম উদ্দিন, সাহাবুদ্দিন ও ইব্রাহীম বলেন,‘ধারকর্জ করে কিস্তি নিয়ে একর প্রতি ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে জমি বর্গা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু চাষাবাদ করতে না পেরে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে।’

স্থানীয় কৃষক বছির আহমদ, তসলিম, রুবি ও চম্পা বলেন, ‘ইরি ও বোরো ধান চাষের আশায় চারা রোপণ করতে প্রতি কেজি ধানের বীজ ৭০০ টাকা মূল্যে কিনে বীজতলা করে এখন বিপাকে পড়েছেন অনেক কৃষক। এমতাবস্থায় বিস্তীর্ণ জমির মাঠ খালি পড়ে আছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে কিভাবে সংসার চালবে এ নিয়ে চিন্তিত  রয়েছেন কৃষকরা।’

 

 

/এইচআই/এএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম