সাতক্ষীরায় লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা শুরু হয়েছে।
শহরের বাঁকাল এলাকায় তাবলিগ মার্কাস মসজিদ সংলগ্ন মাঠে শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) আসরের নামাজের পর থেকে আম বয়ানের মধ্যদিয়ে এই ইজতেমা শুরু হয়। ঢাকার কাকরাইল মসজিদের মুরব্বি মাওলানা আব্দুর রহিম আসরের নামাজের পর আম বয়ান করেন। তাবলিগ জামাতের দাওয়াতের কাজ চলমান রাখতে জেলাভিত্তিক ইজতেমার আয়োজন করা হয়েছে।
ইজতেমায় সাতক্ষীরা জেলার সাত উপজেলার তাবলিগের সাথী ছাড়াও চীন, কেনিয়া, মরক্কো, রাশিয়া, মালয়েশিয়ার পাঁচটি জামাতের শতাধিকসহ প্রায় দেড় লাখ মুসল্লি এখানে সমবেত হবেন বলে জানিয়েছেন ইজতেমার মুরব্বিরা।
সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে আখেরি মুনাজাতের মাধ্যমে এই ইজতেমা শেষ হবে।
সদর উপজেলার আব্দুল্লাহ সরদার বলেন, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য এই ইজতেমায় এসেছি। তিন দিন মাঠে থাকবো এবং ইজতেমায় আসা বিভিন্ন মুরব্বিদের বয়ান শুনে আমল করা চেষ্টা করবো।’
ইজতেমায় আসা তালা উপজেলার শফিকুল ইসলাম রানা, কালিগঞ্জ উপজেলার মোকাম্মেল হক, শ্যামনগর উপজেলার আল- আমিন সরদার, সদর উপজেলার আমিরুজ্জামান বাবুসহ বেশ কয়েজন মুসুল্লি বলেন, ‘ইজতেমার তিন দিন মাঠে থেকে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে আমল করার চেষ্টা করবো।’
সাতক্ষীরা জেলা তাবলিগের মুরব্বি মাওলানা আবু মুছা বলেন, ‘সারাদুনিয়ার মুসলমানরা যাতে দ্বীন মোতাবেক জীবন যাপন করেন, সেই শিক্ষার জন্য এই ইজতেমা। এখান থেকে মুসল্লিরা শিক্ষা গ্রহণ করে জানমাল নিয়ে চারমাস বা ৪০ দিন আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে আল্লাহ ও আখিরাতের দিকে মানুষকে দাওয়াত দেন। মানবজাতির কল্যাণে প্রাণকে নিবেদিত করেন। সে লক্ষ্যেই আমাদের ইজতেমার আয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের ওজুর জন্য ২০টি টিউবওয়েল, ৪৩০ ল্যাট্রিন, ১২০টি প্রশ্রাবখানা, সাতটি পানির ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ইজতেমায় চীন, কেনিয়া, মরক্কো, রাশিয়া, মালয়েশিয়ার পাঁচটি জামাতের শতাধিক মুসল্লিসহ লক্ষাধিক মুসল্লির সমাগম হয়েছে। ইজতেমায় আগতদের থাকার জন্য ৭০ বিঘা জমির ওপর প্যান্ডেল করা হয়েছে। আখেরি মুনাজাতের দিন পৃথিবীর সব মুসলমানদের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হবে।’
সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘সব জায়গায় ইজতেমা শান্তিপূর্ণভাবে হয়ে থাকে। তারপরও ইজতেমাকে ঘিরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইজতেমার মাঠে পুলিশের পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেটও থাকবে। এছাড়া, সার্বক্ষণিক মেডিক্যাল টিম, ফায়ার সার্ভিসের ব্যবস্থা রয়েছে।








